গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সোমবার সকাল প্রায় আটটায় ময়লা সংগ্রহের গাড়ি একটি কারখানার প্রবেশদ্বার পার হয়ে নিরাপত্তা প্রহরী জসিম আহমেদকে আঘাত করে, ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনাটি আনসার রোডের নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার প্রাঙ্গণে ঘটেছে।
মৃত্যুবরণকারী জসিম আহমেদ, ৪৪ বছর বয়সী, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের চাইরবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা এবং শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি শ্রীপুর থানা অধীনে এসআই আব্দুল কুদ্দুসের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
সকালবেলা ময়লা গাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের কাজের জন্য কারখানার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। গাড়িটি ১ নম্বর গেটের উত্তর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জসিমের দিকে ধাক্কা দেয়, ফলে তিনি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে পড়েন। গতি ও গাড়ির ওজনের কারণে আঘাতটি তীব্র ছিল এবং তিনি তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর গাড়িটিকে সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে, তবে গাড়ির চালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। চালকের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার এখনও চালু রয়েছে।
মৃতদেহকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারকে মৃতদেহের পুনরুদ্ধার ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
কারখানার প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পাওয়া যায়নি। ফলে, ঘটনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্ধারণে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এসআই আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার পরপরই পৌরসভার ময়লা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তিনি জানান, গাড়ির চালককে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য স্থানীয় পুলিশ দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
পরিবারের আবেদন অনুযায়ী, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধাপ অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটির যথাযথ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরে ময়লা সংগ্রহের গাড়িগুলি সাধারণত পৌরসভার নির্ধারিত রুটে কাজ করে, তবে এই ঘটনার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। গাড়ি প্রবেশের সময় যথাযথ সিগন্যাল ও গেট নিয়ন্ত্রণের অভাবকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন থেকে গাড়ি প্রবেশের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে। একই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গেটের সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং নিরাপত্তা প্রহরীদের কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



