উগান্ডার সেনা প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা ববি ওয়াইনের স্ত্রী বারবারা কিয়াগুলানির বাড়িতে সামরিক কর্মীদের দ্বারা আক্রমণ ঘটেছে বলে অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করেছেন। অভিযোগটি ববি ওয়াইন, যিনি বর্তমানে গোপনস্থানে আছেন, শনিবার প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তার স্ত্রীকে অস্ত্রধারী সৈন্যরা বাড়িতে প্রবেশ করিয়ে গুলি চালিয়ে হুমকি দেয় এবং নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে।
বারবারা কিয়াগুলানি হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় জানান, সৈন্যরা তার স্বামীর অবস্থান জানতে চেয়ে হুমকি দেয় এবং তিনি অস্বীকার করলে শারীরিক সহিংসতা করে। তিনি উল্লেখ করেন, বহুজন সৈন্য বাড়িতে ঢুকে তাকে মুখে আঘাত করে এবং ঠোঁট ছিঁড়ে দেয়। একজন অফিসার তাকে প্যান্টের কোমরের দড়ি দিয়ে পেছন থেকে টেনে উপরে তুলেছে, আর অন্যজন তাকে গলা চেপে ধরেছে, ফলে তিনি মাঝখানে ঝুলে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এক অফিসার তার শার্ট খুলে তাকে আংশিকভাবে নগ্ন করে দেয়, পরে তা ফিরিয়ে দেয়। একই ব্যক্তি তার চুল টেনে, মুখে আঘাত করে এবং ঠোঁট ছিঁড়ে দেয়। এই সহিংসতার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে জাগ্রত হয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করেন।
ববি ওয়াইন সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানান, তার স্ত্রী এখনও রাতারাতি আক্রমণের মানসিক আঘাত থেকে সেরে উঠছে এবং বাড়ি এখনও সামরিক বাহিনীর দ্বারা ঘেরা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেনা প্রধানের পোস্টে তিনি এবং তার স্ত্রীকে আঘাত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে, তবে তিনি তা অস্বীকার করেন। ববি ওয়াইন বলেন, কাইনেরুগাবা এখনও তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন এবং তাকে ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছেন।
সেনা প্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্ট করে স্পষ্টভাবে বলেন, তার সৈন্যরা কোনো নারীর ওপর হিংসা করেনি। তিনি যোগ করেন, “আমরা নারীদের আঘাত করি না; আমাদের সময় নেই। আমরা তার ভয়ানক স্বামীকে খুঁজছি, নারীর নয়।” এই মন্তব্যটি ববি ওয়াইনের অভিযোগের পরপরই প্রকাশিত হয়।
ববি ওয়াইন ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দীর্ঘমেয়াদী শাসক প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির জয়কে অস্বীকার করে ফলাফলকে জাল বলে দাবি করেন। ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকে সেনা প্রধান কাইনেরুগাবা ওয়াইনের আত্মসমর্পণ দাবি করে এবং তাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন।
বিবি ওয়াইন তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা তাকে নিরাপদে রাখছে এবং তিনি তাদের সমর্থন ছাড়া এই কঠিন সময় পার করতে পারতেন না। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তার বাড়ি এখনও সামরিক বাহিনীর দ্বারা ঘেরা এবং তার স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি এখনও অবশিষ্ট।
বারবারা কিয়াগুলানির বর্ণনা অনুযায়ী, আক্রমণের সময় বেশ কয়েকজন সৈন্য সামরিক ইউনিফর্মে উপস্থিত ছিলেন, তবে কিছু সৈন্যের পোশাক স্পষ্টভাবে সনাক্তযোগ্য ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, আক্রমণের সময় তার বাড়ির দরজা ও জানালা ভেঙে প্রবেশ করা হয় এবং তিনি ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছিলেন না।
সেনা প্রধানের পোস্টে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “মহিলাদের ওপর হিংসা করা আমাদের কাজের অংশ নয়; আমাদের মূল লক্ষ্য হল তার স্বামীকে ধরা।” তিনি এই মন্তব্যে উল্লেখ করেন, “আমরা তার স্বামীকে ধরতে পারলে যথেষ্ট হবে, তার স্ত্রীর ওপর কোনো কাজ করা আমাদের সময়ের অপচয়।”
ববি ওয়াইন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে বলেন, “আমার স্ত্রী এখনও রাতারাতি আক্রমণের মানসিক আঘাত থেকে সেরে উঠছে; আমাদের বাড়ি এখনও সেনা দ্বারা ঘেরা আছে।” তিনি তার সমর্থকদের আহ্বান জানান, যেন তারা তাকে নিরাপদে রাখার জন্য অব্যাহত সহায়তা প্রদান করে।
উগান্ডার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ছে। ববি ওয়াইনের সমর্থকগণ সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করতে চাচ্ছেন, আর সরকার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সামরিক পদক্ষেপ বাড়াতে পারে।
বর্তমানে ববি ওয়াইন গোপনস্থানে আছেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তার সমর্থক গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সেনা প্রধানের অস্বীকারের পরেও, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটির স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার দাবি করছেন। ভবিষ্যতে কি ধরনের আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে উগান্ডার রাজনৈতিক দৃশ্যপট এই ঘটনার পর আরও জটিল হয়ে উঠবে।



