মাইকেল শিন, ওয়েলসের স্বদেশে বেড়ে ওঠা অভিনেতা, বিবিসি (বিবিসি) সহযোগে নির্মিত দুই ভাগের ডকুমেন্টারি সিরিজের প্রধান চরিত্রে উপস্থিত হচ্ছেন। সিরিজটি দক্ষিণ ওয়েলসের কিছু গ্রাম ও কৃষিকাজের কাছাকাছি জমিতে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ (forever chemicals) দফন হওয়ার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং এই বিষয়টি দশকের পর দশক ধরে স্থানীয় মানুষকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে।
ডকুমেন্টারির নাম ‘বেরিড (w/t)’ এবং এটি ওয়াল টু ওয়াল ও স্মোক ট্রেইল প্রোডাকশনসের যৌথ উৎপাদন। সিরিজের লক্ষ্য হল গবেষক ও হুইসেলব্লোয়ার ডগলাস গোয়ানের পূর্বাভাসের সত্যতা যাচাই করা, যিনি প্রায় দশ বছর আগে এই রাসায়নিকের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা দিয়েছিলেন, তবে তার মৃত্যুর আগে তার সতর্কতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
ডগলাস গোয়ান, একজন পরিবেশ গবেষক, স্থানীয় কৃষি জমিতে দফন হওয়া রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই পদার্থগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে ওয়েলসের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য। তার সতর্কতা সত্ত্বেও, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো থেকে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মাইকেল শিনের গোয়ানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ প্রায় দশ বছর আগে হয়। তখন থেকে গোয়ানের সতর্কতা শিনের মনে গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে। শিনের মতে, এই বিষয়টি কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক দায়িত্বেরও প্রশ্ন উত্থাপন করে, কারণ বর্তমান সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের মানকে প্রভাবিত করবে।
সিরিজে শিন স্থানীয় পরিবার, পৌরসভা সদস্য, পরিবেশ সাংবাদিক, ফরেনসিক বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেন। প্রত্যেকেরই নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে এই রাসায়নিকের সম্ভাব্য প্রভাব ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করেন। শিনের উপস্থিতি বিষয়টিকে জনসাধারণের দৃষ্টিতে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিনের মন্তব্যে তিনি বলেন, “এই সিরিজের মাধ্যমে আমরা মাটির নিচে কী লুকিয়ে আছে তা উন্মোচন করার চেষ্টা করছি, প্রভাবিত সম্প্রদায়ের কণ্ঠ শোনার এবং কীভাবে এতদিন ধরে এই বিষাক্ত পদার্থ লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে তা বোঝার লক্ষ্য রাখি।” তিনি আরও যোগ করেন, “সত্য অনুসন্ধানই একমাত্র পথ, তবে এখনই নেওয়া পদক্ষেপই ভবিষ্যৎকে রক্ষা করবে।”
ওয়েলসের পরিবেশগত সমস্যাগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়তে দেখা গেছে, বিশেষ করে শিল্প ও কৃষি কার্যক্রমের ফলে মাটিতে বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক দফন হয়েছে। এসব পদার্থের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা এখনও সীমিত, তাই ডকুমেন্টারিটি তথ্যের ফাঁক পূরণে সহায়তা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মাইকেল শিন সম্প্রতি ওয়েলসের সংস্কৃতি ও সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ২০২৪ সালে জাতীয় থিয়েটার ওয়েলসের বন্ধের পর তিনি নিজস্ব তহবিল দিয়ে একটি নতুন জাতীয় থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় শিল্পী ও কর্মীদের জন্য মঞ্চ সরবরাহ করবে। এছাড়া তিনি ১ কোটি টাকা (প্রায় ১.২৯ কোটি ডলার) ঋণ মাফ করে ৯০০ জনের আর্থিক বোঝা কমিয়েছেন, যার জন্য তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা (প্রায় ১.২৯ লাখ ডলার) ব্যবহার করেছেন।
এই আর্থিক সহায়তা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ শিনের ওয়েলসের প্রতি গভীর সংযুক্তি প্রকাশ করে। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তার জন্মভূমি ওয়েলসের সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে ইচ্ছুক। ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তিনি আবারও এই মিশনকে সামনে রাখছেন।
‘বেরিড (w/t)’ সিরিজের প্রচারনা বিবিসি (বিবিসি) চ্যানেলে আগামী মাসে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। সিরিজটি দুই ভাগে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি ভাগে প্রায় এক ঘণ্টা সময় থাকবে। দর্শকরা এই সিরিজের মাধ্যমে ওয়েলসের গ্রামাঞ্চলে দফন হওয়া রাসায়নিকের প্রকৃত প্রভাব, স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্য পাবে।
ডকুমেন্টারিটি পরিবেশগত স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি, ওয়েলসের স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হিসেবে কাজ করবে। শিনের নেতৃত্বে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।



