28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধছাত্রদলের নেতা সাতটি মেটা পেজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষের মামলা দায়ের

ছাত্রদলের নেতা সাতটি মেটা পেজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষের মামলা দায়ের

ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজীর আদালতে ছাত্রদলের একজন নেত্রী জুঁই, রোকেয়া হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য, সাতটি মেটা পেজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত পেজগুলো ধারাবাহিকভাবে জুঁই ও তার পরিচিত তাওহিদা সুলতানার অনলাইন প্রোফাইলে কুৎসিত, মিথ্যা ও অশালীন মন্তব্য পোস্ট করে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।

অভিযুক্ত পেজের নামগুলো হল: “ফাইট অ্যাগেনেস্ট হিন্দুতভা (ব্যাকআপ)”, “ফাইট অ্যাগেনেস্ট হিন্দুতভা-অফিসিয়াল”, “এফএএইচ এক্সক্লুসিভ”, “ওসমান চাই চাঁদ”, “এসবি বিল্লাল হাসানাত অনু”, “রিয়াশাত ফারহান হোসেন” এবং “হারুল হক”। এসব পেজকে একত্রে কাজ করে জুঁই ও তার পরিচিতদের বিরুদ্ধে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ ও ধর্মীয় ঘৃণামূলক বিষয়বস্তু প্রচার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে ‘বট আইডি’ ব্যবহার করে একাধিক নামের অধীনে একই ধরনের ঘৃণামূলক মন্তব্য প্রকাশ করেছে। এই বট আইডিগুলোকে একজোট হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে, যা মামলার গুরুতরতা বাড়িয়ে তুলেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩ ডিসেম্বরের ঘটনায় জুঁই ও এক সাক্ষীকে মিথ্যা ও অশালীন মন্তব্যের পাশাপাশি ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের শিকার করা হয়েছে। সেই দিনই অভিযুক্তরা মেসেঞ্জার মাধ্যমে হুমকি ও রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত পেজগুলো মেটা প্ল্যাটফর্মে তৈরি করা একাধিক ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুঁই ও তার পরিচিতদের নাম ব্যবহার করে মানহানিকর পোস্ট শেয়ার করেছে। এই পোস্টগুলোতে ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক ভাষা, মিথ্যা তথ্য এবং অশালীন মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আইনের অধীনে অপরাধযোগ্য বলে বিবেচিত।

সিআইডি তদন্তের নির্দেশে, পুলিশকে সংশ্লিষ্ট মেটা পেজের আইডি, পোস্টের স্ক্রিনশট, মন্তব্যের রেকর্ড এবং বট আইডির ব্যবহার সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, মেসেঞ্জার হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত চ্যাট লগও অনুসন্ধান করা হবে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্মীয় বিদ্বেষ, মানহানিকর মন্তব্য এবং অনলাইন হুমকি বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ও সাইবার আইন অনুযায়ী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। সিআইডি তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক অপরাধমূলক ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।

অধিকন্তু, আদালত মামলার পরবর্তী শোনানিরিখ নির্ধারণের পাশাপাশি, প্রমাণ সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করে। সিআইডি যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়, তবে মামলাটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে অগ্রসর হবে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণের সম্ভাবনা থাকবে।

এই ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অনলাইন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা সামাজিক সংহতি রক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নৈতিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে গৃহীত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে, মেটা প্ল্যাটফর্মকে এই ধরনের কন্টেন্ট দ্রুত মুছে ফেলা এবং দায়ী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্যও আদেশ দেওয়া হতে পারে।

সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ঘৃণামূলক কন্টেন্টের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। এই মামলায় সাইবার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অনলাইন হুমকি ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদাহরণ দেখা যাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments