২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা পাঁচটায় রাজশাহী‑নাটোর মহাসড়কের পোল্লাপুকুর এলাকায় বাস ও অটো রিকশার সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণ নেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা তৎক্ষণাৎ গলিতে জমায়েত হয়ে পুলিশকে বাধা দিতে শুরু করে।
সংঘর্ষের ফলে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তৎক্ষণাৎ নিহত হয়, আর দুইজন অন্য যাত্রী – একজন নারী ও একজন পুরুষ – হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করে। আহতদের জরুরি সেবা দল দ্রুত স্থানান্তর করে, তবে গতি ও সময়ের ঘাটতির কারণে রেসকিউ কাজ সীমিত ছিল।
দুর্ঘটনা ঘটার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো চালককে স্থানীয় মানুষগুলো ‘মব’ হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং তিনি পালাতে সাহায্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। তবে পুলিশ জানায়, চালক দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বাস থেকে নেমে দ্রুত রাস্তায় অদৃশ্য হয়ে গেছেন, ফলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে গেছেন।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোল্লাপুকুরে অবস্থিত বেলপুকুর থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ অফিসার উপস্থিত হয়। তবে উপস্থিতি মাত্রই স্থানীয় জনতা তাদের গলিতে বাধা দেয়, এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহ ওসিকে (অফিসার ইন চেজ) তাড়া করে থামিয়ে রাখে। জনতার মধ্যে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে তারা পুলিশকে ‘মব’‑এর কবলে পড়া হিসেবে বিবেচনা করে, ফলে এসআইকে তাড়া করে দাঁড়িয়ে রাখে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর উচ্চতর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসআই ও ওসিকে মুক্ত করে। মুক্তির পর পুলিশ জানায়, তারা চালকের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং বাসটি ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমানের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর চালক তৎক্ষণাৎ বাস থেকে নেমে সড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে সিটে বসে রওনা হন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুজবের ভিত্তিতে পুলিশকে সহায়তা করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কোনো প্রমাণ নেই। গাজিউর রহমান বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার ফলে পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়, যা আইনগতভাবে অপরাধমূলক কাজ।
পুলিশের মতে, চালকের অবৈধ পালানোর কাজের জন্য রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্টের ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী অপরাধের দায় আরোপ করা হবে। এছাড়া, দুর্ঘটনা স্থানে বাস ও অটো রিকশার সংঘর্ষের জন্য ট্রাফিক আইন অনুযায়ী তদন্ত চালু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, গতি, সিগন্যালের অবস্থা এবং চালকদের লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করা হবে।
আইনি দিক থেকে, পরিবারিক পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের না করলেও পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা করেছে। এ ক্ষেত্রে চালককে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে, তার বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ধারণের জন্য আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া, বাসের জব্দকৃত সম্পদ ও চালকের সম্ভাব্য সম্পত্তি জব্দের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। রোড ট্রাফিকের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সিগন্যাল, রোড সাইনেজ এবং জরুরি সেবা গাড়ির দ্রুত প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।



