রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সম্প্রতি সম্পন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি২০ চ্যাম্পিয়ন, সোমবার সকাল ১০:৩০ টায় হযরত শাহ মখদুম (আর.) বিমানবন্দরে পৌঁছে শহরের গলিতে উন্মুক্ত টপের বাসে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিয়ে গৌরবময় যাত্রা শুরু করে। দলটি ট্রফি হাতে নিয়ে বাসে চড়ে, পুলিশ গার্ডের সঙ্গে সড়ক পারাপার করে, আর পথে ভিড়ের সমর্থকরা মোটরসাইকেলে সজ্জিত হয়ে উল্লাসের ঢেউ তুলেছে।
বিপিএল ১২ তম সংস্করণে জয়লাভের পর, খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে শহরের বাসিন্দারা “গর্বের জয়”, “বীরের শহর” এবং “জয় এসেছে, কাপ উঠেছে” লেখা প্ল্যাকার উঁচু করে ধরেছেন। বাসের সামনের অংশে “কাপ আইসে বাড়িতে” স্লোগানটি বড় অক্ষরে ঝলমল করছিল, যা শহরের গর্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী‑নাওগাঁন হাইওয়ে বরাবর গাড়ি চলতে থাকায়, আমচাট্টার, বিমন চাট্টার এবং আরইইটি ফ্লাইওভার পার হয়ে দলটি পারিস রোডে অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ফুলের ঝুড়ি নিয়ে স্বাগত জানায়, আর ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তো ও মুশফিকুর রহিম বারবার ট্রফি উঁচু করে দেখিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসটি তলাইমারী ও শাহেব বাজারের পথে অগ্রসর হয়ে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে থামে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আবারও সমাবেশ করে খেলোয়াড়দের স্বাগত জানায়। একই রকম উল্লাসের দৃশ্য রাজশাহী কলেজের সামনেও দেখা যায়, যেখানে ভিড়ের মধ্যে ট্রফি উঁচু করে ধরা অবস্থায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তোলা হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে গাড়ি লাক্কিপুর, দারিখারবোনা, রেলগেট এবং আবার আমচাট্টার পার হয়ে পাবা জেলার নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পৌঁছায়। এখানে সমাপ্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবক-যুবতীরা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। পুরো যাত্রা জুড়ে পুলিশ গার্ডের উপস্থিতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, আর সাইকেল চালকদের সমাবেশ শহরের রাস্তায় রঙিন চিত্র তৈরি করে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই বিজয়ী ট্যুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক এলাকা অতিক্রম করে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি উন্মাদনা ও গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে। ট্রফি হাতে ধরে ক্যাপ্টেন শান্তো ও মুশফিকুর রহিমের দৃশ্য শহরের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপিএল চ্যাম্পিয়নশিপের এই বিজয়ী মুহূর্তকে শহরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত এই যাত্রা, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সাফল্যকে শুধু মাঠে নয়, রাস্তায়ও উদযাপন করার একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।



