গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল রেলগেট এলাকায় আজ সকাল ১১:৩০ টার কাছাকাছি একটি ট্রেনের ধাক্কায় এক নারী ও তার দুই সন্তান প্রাণ হারিয়ে ফেলেছে। ঘটনাস্থলটি পুবাইল রেলক্রসিং, যেখানে মা সন্তানদের হাত ধরে রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তিতাস এক্সপ্রেস, ঢাকা দিকের দিকে চলছিল।
মৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। ৩৫ বছর বয়সী হাফেজা খাতুন, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নতুন সোমবাজার এলাকার মোজাম্মেল হকের কন্যা। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবারে একমাত্র সন্তান পালনকারী মা হিসেবে পরিচিত।
হাফেজা খাতুনের সঙ্গে ছিলেন দুইটি ছোট সন্তান; বড় শিশুর বয়স প্রায় সাত বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স প্রায় পাঁচ বছর। উভয় শিশুর নাম সংবাদে প্রকাশ না করা হলেও, তারা মা-কে অনুসরণ করে রেললাইন পারাপার এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
সকালবেলা গেটম্যানের দায়িত্বে থাকা আবদুল সাত্তার গেটের কাছে উপস্থিত হয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেন মা সন্তানদের সঙ্গে রেললাইনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাদের সরিয়ে যাওয়ার জন্য চিৎকার করে আহ্বান জানান। তবু হাফেজা খাতুন সন্তানদের হাত দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে চলতে অস্বীকার করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তিতাস এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে গতি বাড়িয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। গেটম্যানের সতর্কতা সত্ত্বেও মা ও শিশুরা রেললাইনে অচল অবস্থায় রইল। ট্রেনটি রেলক্রসিং অতিক্রম করার মুহূর্তে হাফেজা খাতুন এবং তার দুই সন্তান ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে যায়।
ট্রেনের ধাক্কা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় মানুষ এবং গেটম্যানের সহায়তায় আহতদের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা হয় না, কারণ ট্রেনের গতি এবং আঘাতের তীব্রতা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। ট্রেনের ধাক্কা শোনার পর গাজীপুরের পুবাইল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের দল现场ে পৌঁছে মৃতদেহগুলো হেফাজতে নিয়ে যায়। হেফাজতে নেওয়া তিনজনের দেহ পরবর্তীতে পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে। মৃতদেহের প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে জানা যায় যে ট্রেনের ধাক্কা সরাসরি মৃত্যুর কারণ।
গেটম্যান আবদুল সাত্তার জানান, শিশুরা মা-কে ছেড়ে যেতে চেয়েছিল, তবে মা দৃঢ়ভাবে তাদের ধরে রেখেছিলেন এবং কোনো সময়ে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, তিনি দৌড়ে গিয়ে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
পুবাইল থানার উপপরিদর্শক সৈয়দ আল আমিনের মতে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে হাফেজা খাতুন তার দুই সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক নয় এবং তদন্তের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঘটনা পরিষ্কার হবে।
অধিক তদন্তে গেটম্যানের বিবৃতি, ট্রেনের গতি, রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল সিস্টেম এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথার্থতা যাচাই করা হবে। পুলিশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে রেললাইন পারাপারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, রেললাইন পারাপারে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, আত্মহত্যা সন্দেহের ক্ষেত্রে পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান করার জন্য সামাজিক সেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সতর্কতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে।



