20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইলেকশন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ পোস্টাল ব্যালট বিতরণ শুরু ঘোষণা

ইলেকশন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ পোস্টাল ব্যালট বিতরণ শুরু ঘোষণা

ইলেকশন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে একটি ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে পোস্টাল ব্যালটের বিতরণ আজ থেকে শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের বাইরে থাকা ভোটারদেরও সময়মতো ভোট দিতে সক্ষম করা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

বিতরণ করা হচ্ছে সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটারদের হাতে। এই তিনটি গোষ্ঠীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারে।

প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যালটগুলো এয়ারপোর্ট বা তেজগাঁওয়ের নির্ধারিত মেইল প্রসেসিং সেন্টারের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। কোনো ভোটার যদি দেশে এসে স্থানীয় পোস্টবক্সে ব্যালট ফেলেন, তা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ব্যালটের ডেলিভারি সময়সীমা কঠোরভাবে নির্ধারিত। ভোটের দিন সাড়ে চারটার পরে পৌঁছানো কোনো ব্যালট গ্রহণ করা হবে না, ফলে সময়মতো ভোট নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই নিয়মের মাধ্যমে ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা লক্ষ্য।

ভোটগ্রহণের পর অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে, সর্বোচ্চ চার ঘণ্টার মধ্যে সব ফলাফল জানানো হবে। দ্রুত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা জোরদার করা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে।

প্রবাসী ভোটের ক্ষেত্রে ফলাফল প্রকাশে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগতে পারে। এর প্রধান কারণ হল পোস্টাল ব্যালটে চারটি ভিন্ন ধরণ এবং দুই পাশে মোট ১১৯টি প্রতীক রয়েছে, যেগুলো স্ক্যান করে যাচাই করতে সময়সাপেক্ষ। এই প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া ফলাফলকে ধীরগতি করে তুলতে পারে।

একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি কেন্দ্রে প্রায় ষোলো হাজার প্রবাসী ব্যালট একসাথে গণনা করতে হয়। এই বড় পরিমাণের ব্যালট দ্রুত এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একই সময়ে গণনা করা হবে, তবে আলাদা আলাদা টিমের মাধ্যমে কাজ করা হবে। উভয় ভোটের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে, যাতে ফলাফলের সামঞ্জস্য বজায় থাকে এবং ভোটারদের বিভ্রান্তি না হয়।

ইলেকশন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং সময়োপযোগী ভোট গণনা নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রতিটি ধাপের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে ফলাফল দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়।

শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রায় ষোলো হাজার বিএনসিসি ক্যাডেটকে স্থানীয় পর্যায়ে মোতায়েন করা হবে। তবে এই ক্যাডেটরা সরাসরি ব্যালট গণনায় অংশ নেবে না; তারা মূলত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের জন্য ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি, রিটার্নিং অফিসার এবং স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্তরে অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াবে।

সার্বিকভাবে পোস্টাল ব্যালটের বিতরণ এবং গণনা প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেশের বাইরে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments