ঢাকা, আগারগাঁও – জাতীয় নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সোমবার নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের মাঠে সকল প্রার্থী ও ভোটারকে সমান শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ গড়ে তোলা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগের পথও তুলে ধরেন, যে কোনো irregularity বা অসঙ্গতি লক্ষ্য হলে তা নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটিকে জানাতে বলা হয়। অভিযোগের পর্যালোচনা দ্রুত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ৩০০টি নির্বাচনী আসনের জন্য ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটিকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে এবং কপি সহ প্রেরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ত্বরিতভাবে অনুসন্ধান করা হবে।
ইসি সচিব উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলোকে তদারকি করার জন্য কমিশনের দিক থেকে ফলো‑আপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটি ও অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
গতকাল একই দপ্তর কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের জন্য একটি ব্রিফিংও পরিচালনা করেছিল। এতে রাষ্ট্রদূত, মিশনপ্রধান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কূটনীতিকসহ মোট ৪১ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। ভোটের নিরাপত্তা, ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি এবং অন্যান্য লজিস্টিক বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তথ্য শেয়ার করা হয়। কূটনীতিকরা মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্টতা চান।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, ভোটের দিন পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত তত্ত্বাবধান থাকবে। প্রতিটি বাহিনীর নির্দিষ্ট সংখ্যা ও মোতায়েনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ভোটকেন্দ্রে ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০টি বডি‑ওয়র্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যাতে ভোটগ্রহণের সময় সব কার্যক্রম রেকর্ড করা যায় এবং কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ফলাফল ঘোষণার সময় সম্পর্কে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশিত হবে। তবে পোস্টাল ব্যালটের গণনা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
বহিরাগত ভোটারদের ভোট সংগ্রহের ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারকে অতিরিক্ত সময় দিতে হবে, কারণ বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের ভোট গৃহীত হলে তা গণনা করতে বেশি সময় লাগবে। তাই কিছু কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশের সময় চার ঘণ্টা অতিক্রম করতে পারে।
ইসি সচিবের মতে, সব কেন্দ্রের ফলাফল সময়মতো প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণার সময়সূচি অনুসারে কাজ করা হবে। তিনি শেষ করে বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।



