গত সন্ধ্যায় পুথিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী–নাটোর হাইওয়েতে একটি বাস ও অটো-রিকশার ধাক্কা ঘটায় তিনজনের মৃত্যু ও বহু আহতের ঘটনা ঘটেছে। ধাক্কা ঘটার পরই স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃত ছাত্রের সহপাঠীরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে, পুলিশকে অভিযুক্ত করে।
ধাক্কায় তৎক্ষণাৎ একটি ভ্যারেন্দ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের প্রাণ ত্যাগ করে, অন্য ছয় থেকে সাতজন আহত হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি দুইজন রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে দুজনই মৃত্যুবরণ করে, এ তথ্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিয়ুর রহমান জানিয়েছেন।
স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ ছিল, বাস চালককে পুলিশ সহায়তা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বেলপুকুর থানা থেকে ওসি ও এসআইসহ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে ভিড়ের মুখে তারা বাধাপ্রাপ্ত হয়।
ভিড়ের সদস্যরা ওসিকে ঘিরে তাকে কান ধরে দাঁড়াতে বাধ্য করে, আর এসআইকে তার কানে হাত রেখে দাঁড়াতে বলা হয়। একই সঙ্গে ওসিকে শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ করে verbal abuse করা হয়। গাজিয়ুর রহমানের মতে, এই ঘটনার মূল কারণ ছিল বাস চালকের তৎক্ষণাৎ পালিয়ে গিয়ে একটি ফুয়েলিং স্টেশনে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া, যা পুলিশ পৌঁছানোর আগে ঘটেছে।
পুলিশের মতে, চালককে ধরা না যাওয়ার rumor ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ভিড়ের মধ্যে পুলিশকে দায়ী করা হয়। এক ঘন্টারও কম সময়ে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা ওসি ও এসআইকে মুক্ত করে, তবে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তীব্র ছিল।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ এখন দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও শিকারের পরিবারগুলো মামলা না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। গাজিয়ুর রহমান উল্লেখ করেন, আইনি প্রক্রিয়া চালু থাকলেও পরিবারগুলোর ইচ্ছা সম্মান করা হবে।
বসের গাড়ি এখন পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছে এবং চালকের গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য অনুসন্ধান চলছে। চালকের গাড়ি ফুয়েলিং স্টেশনে ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ গাড়ি পুনরুদ্ধার করে, তবে চালকের অবস্থান এখনো অজানা।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তে রোডের অবস্থা, গতি সীমা ও গাড়ির টেকনিক্যাল অবস্থা পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, বাস চালকের লাইসেন্স ও রুটের অনুমোদন সম্পর্কেও তদন্ত চালু রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রদের দাবি ছিল, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তবে ভিড়ের আক্রমণ ও শারীরিক হুমকি পুলিশকে কার্যকরভাবে কাজ করতে বাধা দেয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তা বাড়াতে এবং রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় ট্রাফিক জ্যাম ও অশান্তি দেখা দিয়েছে, যা রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ি ও যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
অবশেষে, রোড দুর্ঘটনা ও তার পরবর্তী ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই আইনগত দায়িত্ব পালন এবং পুনরায় এমন ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



