ডা. সুলতান আহমেদ, জামায়াত-এ-ইসলামির বরগুনা-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী, ২৫ জানুয়ারি রবিবার রাতের দিকে বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভার সময় উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও বাংলাদেশে দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জামায়াত-এ-ইসলামির ওপর নির্ভরশীল।
ডা. আহমেদ উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হবে এবং এটির ফলাফল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সুনাম নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, পূর্বের বহু নির্বাচনে ভণ্ডামি, প্রতারণা এবং সহিংসতার অভিযোগ উঠে এসেছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি যোগ করেন, যদি এইবারের নির্বাচন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে বিশ্বকে দেখানো সম্ভব হবে যে বাংলাদেশও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে সক্ষম। এ বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং জোর দেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সঠিক সিদ্ধান্তের উপর।
ডা. আহমেদ উল্লেখ করেন, বরগুনা-২ আসনটি বরগুনা জেলার বামনা, পাথরঘাটা এবং বেতাগী তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত, এবং এই অঞ্চলগুলোতে জনগণের প্রত্যাশা উচ্চ। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সরাসরি এই এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে জনগণ এবং বিশ্লেষকরা এই নির্বাচনের দিকে নজর রাখছে, এবং এটি বাংলাদেশের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ডা. আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, যদি ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা দেশের ক্ষতি, জাতির ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে।
ডা. আহমেদের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকারও বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াত-এ-ইসলামির ভূমিকা স্বীকার করেছে। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশীয় রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি একসাথে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসভার সময় উপস্থিত বিশাল জনসমাগমে ডা. আহমেদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের সমালোচনা করেন এবং অতীতের নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানান। তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনে লাঠিয়াল বাহিনীর দৌড়াত্ব, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স দখল এবং মারামারির ঘটনা ঘন ঘন ঘটেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
ডা. আহমেদ আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা রয়েছে যে বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন হবে, এবং এ ক্ষেত্রে জামায়াত-এ-ইসলামি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি উপস্থিতদের আহ্বান জানান, বিচক্ষণ নাগরিক, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা এই মুহূর্তের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জনসভার শেষে ডা. আহমেদ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ভোটারদের বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্বশীলতার ওপর, এবং তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে ভুল সিদ্ধান্তের ফলে জাতি, দেশ এবং ব্যক্তিগত ক্ষতি হবে। তিনি শেষ করে বলেন, এই নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াবে এবং দেশের অভ্যন্তরে ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।
এই মন্তব্যের পর, উপস্থিত জনতা এবং পার্টি কর্মীরা ডা. সুলতান আহমেদের সমর্থনে তালি দিলেন এবং নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি জানালেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন এই ধরনের জনসভা পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



