গুলশান, ঢাকা – ২৬ জানুয়ারি সোমবার, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন গুলশানের বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতীককে ভোটার জয় করার হাতিয়ার বানিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা নির্বাচনের নৈতিক মানদণ্ডের সরাসরি বিরোধী।
মাহদী আমিনের মতে, ধর্মীয় চিহ্ন বা রীতি ব্যবহার করে ভোটারকে প্রভাবিত করা কেবল নৈতিকতার লঙ্ঘন নয়, বরং আইনগত শাস্তির আওতায় পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “জনমাল দিয়ে কোনো প্রতীককে জয়ী করা, তা ধর্মীয় দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করা, এবং তা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ বানানো স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন”।
বক্তব্যের পাশাপাশি, তিনি নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেন যে, একাধিক দল থেকে সংগ্রহ করা এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “যদি কোনো দল ভোটারদের আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো প্রলোভন দিয়ে এনআইডি ব্যবহার করে, তবে তা ভোটারদের গোপনীয়তা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে”।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জোর দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে। তিনি অতীতের নির্বাচনী ইতিহাসে ছোটখাটো ঘটনা থেকে শিখতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সহিংসতা বা অশান্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মাহদী আমিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বিএনপি কোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না এবং দলটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি অতীতের কিছু ক্ষুদ্র ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “নির্বাচনী ইতিহাসে কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলোকে বড় সমস্যায় রূপান্তর করা উচিত নয়”।
বিএনপি নেতৃত্বের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ব্যবহার করা নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা যদি নিয়মিতভাবে চালু থাকে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে অনিচ্ছাকৃত প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এনআইডি তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে কিনা, তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাহদী আমিনের এই সতর্কতা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো অব্যাহত থাকে, তবে তা নির্বাচনী নীতি ও আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হবে”। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা দ্রুত শাস্তি দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে মাহদী আমিন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, তাই সকল দলকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত”। তার এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যা আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য মৌলিক শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।



