মিশেল কাং, ওয়াশিংটন স্পিরিটের মালিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় নারী ফুটবল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, ফিফার প্রথম নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপের উপস্থাপনকারী অংশীদার হিসেবে তার মাল্টি‑ক্লাব সংস্থা কিনিস্কাকে ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কাংয়ের যুক্তরাষ্ট্রের সকার সংস্থার কাছে ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২ মিলিয়ন পাউন্ড) পাঁচ বছরের জন্য দান করার পরের ঘটনা, যা তখন ঐতিহাসিক ও দাতব্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
দানের পর, ডিসেম্বর ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের সকার সংস্থা কাং উইমেন্স ইনস্টিটিউট চালু করে, যা বিজ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে নারী ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রাখে। এই উদ্যোগের প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র সমালোচনা না হয়ে, বেশিরভাগ নারী ফুটবল সম্প্রদায় কাংয়ের উদারতা ও তার গেমের বিকাশের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায়।
ফিফা, যা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের শাসক সংস্থা, গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে কিনিস্কা, কাংয়ের মাল্টি‑ক্লাব মালিকানার সংস্থা, প্রথম নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপের উপস্থাপনকারী অংশীদার হবে। টুর্নামেন্টটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্বের শীর্ষ চারটি নারী দল এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফিফা এই অংশীদারিত্বকে গেমের আর্থিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
তবে এই স্পনসরশিপের পেছনে স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। কাং বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়োনেসসহ তিনটি নারী ক্লাবের মালিক, যাদের লক্ষ্য টুর্নামেন্টে ট্রফি জয় করা। একই সঙ্গে, তিনি ওলিম্পিক লিয়ন (OL লিয়ন) ক্লাবেরও মালিকানা ভাগ করে নেন, যা আটবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। ফলে, এমন একটি টুর্নামেন্টে যেখানে এই ক্লাবগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, কাংয়ের সংস্থা অংশীদার হিসেবে উপস্থিত থাকলে ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদিও কাংয়ের নারী ফুটবলের প্রতি উত্সর্গ প্রশংসনীয়, ফিফার উচিত এই ধরনের অংশীদারিত্বে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত দূর করার জন্য স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করা। অন্যদিকে, ফিফা যুক্তি দেয় যে কাংয়ের আর্থিক সমর্থন গেমের বিকাশে অবদান রাখবে এবং তার অভিজ্ঞতা টুর্নামেন্টের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
এই বিতর্কের মধ্যে, ফিফা এখনও স্পনসরশিপের শর্তাবলী ও নিয়মাবলী প্রকাশ করেনি, যা ভবিষ্যতে কোনো বিরোধের উদ্ভব রোধে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কাংয়ের পূর্ববর্তী দান ও ইনস্টিটিউটের কাজকে বিবেচনা করলে, তার লক্ষ্য স্পষ্ট: নারী ফুটবলের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা এবং গ্লোবাল স্তরে গেমের মানোন্নয়ন করা। তবে, একই সময়ে তিনি যে ক্লাবগুলো পরিচালনা করেন, সেগুলোর জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা স্বার্থসংঘাতের প্রশ্নকে তীব্র করে তুলছে।
ফিফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপের আয়োজনের জন্য লন্ডনকে নির্বাচিত করেছে, যেখানে টুর্নামেন্টের সূচি ও অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচগুলো আগামী সপ্তাহে শুরু হবে, এবং বিশ্বব্যাপী মিডিয়া এই ইভেন্টকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে।
এই পরিস্থিতিতে, নারী ফুটবলের সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাংয়ের আর্থিক সহায়তা ও ফিফার অংশীদারিত্বের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। তারা আশা করে, স্বার্থসংঘাতের উদ্বেগ সত্ত্বেও, টুর্নামেন্টটি গেমের গুণগত মান ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে।
ফিফা ও কাং উভয়ই এই ইভেন্টের সফলতা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবে, তবে স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত নীতি অনুসরণ করা হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে। নারী ফুটবলের বিকাশে আর্থিক সমর্থন অপরিহার্য, তবে তা ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে গেমের প্রতি আস্থা বজায় থাকে এবং সকল দল সমান সুযোগ পায়।



