চাঁনখারপুলে জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত সশস্ত্র হামলার পর ছয়জনের মৃত্যু ও আটজনের গ্রেফতারের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সোমবার আটজন পুলিশ সদস্যের সাজা ঘোষণার পর প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের কোনো অবৈধ আদেশ পালন করতে কোনো রাষ্ট্রের কর্মকর্তা‑কর্মচারী বাধ্য নয়; প্রত্যেককে আইন অনুসারে কাজ করতে হবে এবং তার কাজের জন্য আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।
সাজা ঘোষণার সময় তাজুল ইসলামকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, “পুলিশকে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলতে হয় কি?” এর উত্তরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার যদি অবৈধ কাজের নির্দেশ দেয়, তবে তা মানা বাধ্যতামূলক নয়, কারণ প্রত্যেকের কাজের জন্য আদালতে দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নীতি সকল সরকারি কর্মীর জন্য প্রযোজ্য এবং তা দেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় অপরিহার্য।
সাজা ঘোষণায় রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ‑কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আটজন অভিযুক্তের মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং একই থানার তিনজন কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে প্রত্যেককে তিন বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ আদালত দিয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যায়। তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এই সম্পদগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি আরও জানান, পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যারা সবচেয়ে ভয়ংকর কাজের আদেশ দিয়েছেন এবং গ্রুপের সদস্য ছিলেন, তাদের সবকে মামলায় আনা হয়নি; তবে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ফরমাল অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়েছে।
এই রায়ের ফলে আইসিটি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আইনগত দায়িত্বের স্পষ্টতা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তাজুল ইসলামের মন্তব্য অনুসারে, ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ আদেশের মুখে সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, সম্পদ বাজেয়াপ্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।
প্রধান কৌঁসুলি তাজুলের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ সংস্থার মধ্যে আদেশের বৈধতা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আশা করা যায়। সরকারী দিক থেকে, অবৈধ আদেশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে, আইসিটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে উল্লিখিত ঘাটতি দূর করার জন্য অতিরিক্ত তদন্ত ও দায়িত্বশীলদের বিচারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই রায় ও তাজুল ইসলামের মন্তব্য বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কীভাবে এই নীতি বাস্তবায়ন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।



