ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে সোমবার পৃথক রিমান্ডের আবেদন শোনা হয়। জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টার সালমান এফ রহমান এবং পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালকের পুত্র সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের রিমান্ড অনুমোদিত হয়। আদালত দুই মামলাতেই প্রতিটি চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
প্রতিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিলের দাবি করে জামিনের আবেদন দাখিল করলেও, দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম রিম্যান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রোসিকিউশন প্রথমে সালমান এফ রহমানের জন্য পাঁচ দিন এবং সিয়ামের জন্য সাত দিন রিমান্ড চেয়েছিল, তবে আদালত উভয়কে চার দিন করে সীমাবদ্ধ করেছে। সহকারী রিয়াজ হোসেনের উপস্থিতিতে শুনানি শেষ হয়ে রিমান্ডের আদেশ জারি করা হয়।
সালমান এফ রহমানের রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ‘স্কাইনেট অ্যাপারেলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ ও অ্যাকমোডেশন বিল তৈরি করে বিশাল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। এই জালিয়াতির সঙ্গে তার ছেলে ও ভাতিজার মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সংযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকা সালমান এফ রহমানকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে প্রোসিকিউশন উল্লেখ করে।
সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুব মোর্শেদ ২২ জনের ওপর মামলাটি দায়ের করেন। একইভাবে, সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। সিয়ামের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের রিমান্ড আদেশের পর, উভয় মামলায় পরবর্তী শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়। প্রোসিকিউশন উল্লেখ করেছে যে, রিমান্ডের সময়কালে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় নিশ্চিত করা হবে। অপরদিকে, রক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের সময়কালে গ্রাহ্যযোগ্য কোনো শর্ত আরোপ না করা হলে তাদের ক্লায়েন্টের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে দাবি করে।
এই রিমান্ডের মাধ্যমে আদালত উভয় মামলায় তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করবে। রিমান্ডের সময়কালে প্রোসিকিউশন ও রক্ষা পক্ষের উভয়ই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে, যা পরবর্তী শোনার ভিত্তি গঠন করবে।
মামলাটির মূল বিষয় হল জনতা ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি, ভুয়া বিল তৈরি, এবং বিদেশে অর্থ পাচার। এই ধরনের আর্থিক জালিয়াতি দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। আদালতের রিমান্ড আদেশের মাধ্যমে তদন্তের গতি বাড়িয়ে অপরাধের প্রকৃত দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সালমান এফ রহমান ও সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের রিমান্ডের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, আদালত পরবর্তী শোনার তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষই তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করবে।



