রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ওসির ওপর অসামি ছাড়ার অভিযোগ উঠার পর তাকে গৃহে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআইকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া হয়। উভয় কর্মকর্তার সঙ্গে গৃহবন্দি করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। একই সময়ে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পর বাস চালিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে চালক বাসটি রেখে পালিয়ে যায়।
পালিয়ে যাওয়া চালকের পেছনে অনুসরণে পুলিশ গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছায়, তবে চালককে ধরা না গিয়ে কেবল বাসটি সিএনজি স্টেশনে ফাঁকা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
সেই সন্ধ্যায় রাত সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দ্রুত ওসিকে উদ্ধার করে এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে। এর পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
উদ্ধারের পর, পুলিশ কর্মকর্তারা জানান যে গৃহবন্দি করা ওসির সঙ্গে অতিরিক্ত সহিংসতা ও অবমাননা করা হয়েছিল। উপস্থিত জনসাধারণের কিছু অংশ গুজবের ভিত্তিতে ওসির সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং এসআইকে কান ধরার চেষ্টা করে।
এই ঘটনায় গৃহবন্দি করা ওসির এবং এসআইকে বাধা দেওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, গৃহবন্দি ও সহিংসতার অভিযোগে অপরাধমূলক দায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান উল্লেখ করেন, গৃহবন্দি করা ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়, তার অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে ট্রাফিক পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায়, স্থানীয় বাস ও ট্রাক চালকদের রুটে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। এই সময়ে গৃহবন্দি করা কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
ঘটনাস্থলে গৃহবন্দি করা ওসির সঙ্গে অতিরিক্ত সহিংসতা ও অবমাননা করা হয়েছিল, যা আইনানুগভাবে শাস্তিযোগ্য। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, ভবিষ্যতে কী ধরনের শাস্তি হবে তা আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে জানিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
এই ঘটনায় গৃহবন্দি করা ওসির এবং এসআইকে বাধা দেওয়ার জন্য গৃহবন্দি করা ওসির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, দুর্ঘটনা, গৃহবন্দি, গুজব এবং জনসাধারণের উত্তেজনা একত্রে একটি জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যার সমাধানের জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



