ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) আজ ঘোষণা করেছে যে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটে প্রায় ছয় দশ হাজার পর্যবেক্ষক অংশ নেবে। এতে দেশীয় ও বিদেশী উভয় পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত, যা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আশাদুল হক কর্তৃক ইসিসি থেকে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ৭,৯৯৭ জন পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয় স্তরে ৪৭,৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। এই সংখ্যা পূর্বে অনুমানকৃত সংখ্যার তুলনায় কিছুটা বেশি, যা নির্বাচনের ব্যাপক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে।
অধিকাংশ পর্যবেক্ষক বিভিন্ন স্বতন্ত্র সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ পাবে। এদের মধ্যে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) সর্বোচ্চ ১০,৫৫৯ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। তার পর সঙ্গতি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ২,৬০৪ জন এবং রিসডিএ-বাংলাদেশ ১,৬৪৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে।
অন্যান্য সংস্থার তালিকায় রশ্মি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (১,১৬৩ জন), গ্রামীণ ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (১,১৭৯ জন), হিউম্যান রাইটস সাপোর্টস সোসাইটি (১,১৮৫ জন), অ্যাকটিভ এইড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (১,০৩৫ জন), অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশিও-ইকোনমিক অ্যাডভান্সমেন্ট (১,০০৩ জন), ব্রাতি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (২৮৯ জন), সেবা ফাউন্ডেশন (৬৬৪ জন), ডেমোক্রেসি ওয়াচ (৫৬৮ জন), লাইট হাউস (৫৪৯ জন), অধিকার (১০০ জন), বকরগঞ্জ ফোরাম (১,০৫০ জন), আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন (৮৫৯ জন) এবং বি.বি. আশিয়া ফাউন্ডেশন (১,৬৩৫ জন) অন্তর্ভুক্ত।
১ জানুয়ারি ২২ তারিখে ইসিসি সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ উল্লেখ করেন যে প্রায় পাঁচশো বিদেশি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছে। তিনি জানান, মোট ৮৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থা আমন্ত্রণ পেয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে, আর পাঁচটি সংস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এছাড়াও প্রায় পঞ্চাশজন বিদেশি সাংবাদিক এই নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রতিটি পর্যবেক্ষক দলকে নির্দিষ্ট ভোট কেন্দ্র ও গণভোটের স্থানে স্থাপন করা হবে, যাতে ভোটার তালিকা, ভোটদান প্রক্রিয়া এবং ফলাফল গণনার সময় স্বতন্ত্র তদারকি করা যায়। ইসিসি এই ব্যবস্থা নির্বাচন ফলাফলের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



