অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে রড লেভার আরেনায় জেসিকা পেগুলা মাডিসন কীসের ওপর ৬-৩, ৬-৪ স্কোরে জয়লাভ করে শিরোপা রক্ষাকারী কীসের শিরোপা রক্ষা শেষ করে। ম্যাচটি মাত্র ৭৮ মিনিটে শেষ হওয়ায় উভয় খেলোয়াড়ের শারীরিক ও মানসিক শক্তি পরীক্ষা করে দেখায়। পেগুলার এই জয় তাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আমান্ডা অ্যানিসিমোভার সঙ্গে মুখোমুখি করে, যিনি একই দিনে চীনের শিনিউ ওয়াংকে পরাজিত করে অগ্রসর হয়েছেন।
কীসের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সে ২৬টি উইনার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পেগুলার চেয়ে বারোটি বেশি, তবে তার ২৮টি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি রড লেভার আরেনার কঠোর পরিবেশে তাকে ব্যাহত করে। অপরদিকে পেগুলা তুলনামূলকভাবে কম ত্রুটির সঙ্গে তার গেম পরিচালনা করে, যা তার দ্রুত জয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
এই ম্যাচের আরেকটি দিক ছিল দুই বন্ধুর মধ্যে চলমান একটি অদ্ভুত শর্তযুক্ত বাজি, যা পেগুলার পরিবারের থ্যাঙ্কসগিভিং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। পেগুলা জানিয়েছেন যে তার মা থ্যাঙ্কসগিভিং-এ আপেল পাইয়ের ওপর চেডার চিজ গলিয়ে খেতেন, এবং তিনি এই রীতি কীসের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন।
প্রথমে কীস এই রকম খাবার চেখে দেখতে অস্বীকার করলেও, পরাজয়ের পর তিনি শর্ত মেনে নিতে বাধ্য বোধ করেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “বাজি হল বাজি, তাই আমি চেষ্টা করব। আশা করি এটি আমার কল্পনার চেয়ে কমই হবে।” এই মন্তব্যে তিনি শর্তের প্রতি তার স্বীকারোক্তি ও কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাজির অন্য শর্তটি ছিল যদি পেগুলা জয়লাভ না করতেন, তবে কীস পেগুলাকে কানসাস সিটি চিফসের জার্সি পরাতে বাধ্য করতেন, যেখানে ট্র্যাভিস কেলসে ও টেলর সুইফটের নাম উল্লেখ করা ছিল। পেগুলা জয়লাভের পর ক্যামেরা লেন্সে “no Chiefs jersey today” লিখে এই শর্তকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার হাস্যকর মনোভাব প্রকাশ করেন।
পেগুলার পরিবারিক পটভূমি উল্লেখযোগ্য; তার পিতামাতা বাফেলো বিলসের মালিক, যা তার আর্থিক সক্ষমতা ও টেনিসের বাইরে স্পোর্টস জগতে তার সংযোগকে তুলে ধরে। এই তথ্যের মাধ্যমে তার পেশাদার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের সংযোগের একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
ম্যাচের পর পেগুলা ও কীস লকার রুমে একসাথে সময় কাটিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন, যা তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে। উভয় খেলোয়াড়ই ম্যাচের পরস্পরকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যৎ গেমে সফলতা কামনা করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের অন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল আর্যনা সাবালেনকারা টায়-ব্রেক রেকর্ড ভেঙে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন। তার এই সাফল্য টুর্নামেন্টের অন্যান্য খেলোয়াড়দের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
পরবর্তী রাউন্ডে পেগুলা অ্যানিসিমোভার সঙ্গে মুখোমুখি হবেন, যেখানে উভয়েই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বুনছেন। সাবালেনকা তার পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে টায়-ব্রেকের উত্তেজনা বজায় রেখে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।



