ঢাকা – ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন দূতাবাস ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন জানিয়ে দিয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুসারে, ভিসা বন্ডের অর্থ আবেদনকারীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ত্রিশ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে। এই নির্দেশনা সকল নতুন ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য এবং আবেদন জমা দেওয়ার পরই কার্যকর হবে।
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, বন্ডের অর্থ সময়মতো পরিশোধ না করলে ভিসা প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে। বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর ভিসার ধরণ ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়, তবে সাধারণত এটি প্রাথমিক ফি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ধার্য করা হয়। আবেদনকারীকে অনলাইন পোর্টাল অথবা নির্ধারিত ব্যাংক শাখার মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।
দূতাবাস এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে সময়সীমা কমিয়ে ভিসা প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি উল্লেখ করেছে। অতিরিক্তভাবে, বন্ডের দ্রুত সংগ্রহের মাধ্যমে অননুমোদিত দীর্ঘস্থায়ী আবেদন ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে তারা যুক্তি দিয়েছে। এই নীতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গৃহীত হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের মার্কিন দূতাবাসে ইতিমধ্যে প্রয়োগে রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে আবেদনকারীদের যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার উল্লেখ করেছে, ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা উভয়ই দেশের ব্যবসায়িক ও পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নতুন পেমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিশনও অনুরূপ বন্ড নীতি প্রয়োগ করে আসছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশে ভিসা বন্ডের সময়সীমা ২০-৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে, যা আবেদনকারীর দায়িত্বশীলতা বাড়ায়। এই প্রবণতা দেখায় যে, ভিসা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে বন্ডের ভূমিকা ক্রমবর্ধমান।
ব্যান্ডের দ্রুত পরিশোধের ফলে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে, বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে, কারণ এটি ভিসা অনুমোদনের সময়সীমা কমিয়ে ব্যবসায়িক চক্রকে ত্বরান্বিত করবে। তবে, ছোট ব্যবসা ও স্বল্প আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বন্ডের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে, যা নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস আবেদনকারীদের জন্য একটি হটলাইন এবং ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করেছে, যেখানে বন্ড পেমেন্ট সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। এছাড়া, দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত গাইডলাইন আপলোড করা হয়েছে, যাতে আবেদনকারীরা পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজে অনুসরণ করতে পারে। আবেদনকারীদেরকে বন্ডের রসিদ সংরক্ষণ করে পরবর্তী ধাপে উপস্থাপন করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধের নতুন নির্দেশনা ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই নীতি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমর্থন পেয়েছে। আবেদনকারীরা সময়মতো পেমেন্ট সম্পন্ন করে ভিসা অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পারেন, যা দেশের বহির্বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



