রিনা গোনোই, যিনি জাপানের স্ব-রক্ষা বাহিনীতে সেবা করার সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, সরকার ও এক প্রাক্তন সহকর্মীর সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা করেছেন। এই চুক্তি তার পাঁচজন প্রাক্তন সৈনিক ও সরকারকে লক্ষ্য করে চলা নাগরিক মামলাকে সমাপ্ত করে।
গোনোইকে সরকার থেকে ১.৬ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১০,৪০০ ডলার) প্রদান করা হবে, তবে সহকর্মী কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা ক্ষমা চিঠি দেবে না। এই অর্থপ্রদান সরকারী দায়িত্ব স্বীকারের অংশ হিসেবে বিবেচিত, যদিও সরাসরি ক্ষমা প্রকাশ করা হয়নি।
মামলাটি মোট পাঁচজন প্রাক্তন সৈনিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল। গোনোই পূর্বে চারজন অভিযুক্তের সঙ্গে সমঝোতা করে ইতিমধ্যে অধিকাংশ দায় শেষ করে ছিলেন, এবং এখন অবশিষ্ট দুইজনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
একই ঘটনার অপরাধমূলক দিক নিয়ে ২০২৩ সালে আদালত তিনজন সৈনিককে দোষী সাব্যস্ত করে। সেই রায়ের পর গোনোইয়ের নাগরিক মামলা অব্যাহত থাকলেও, আজকের চুক্তি দিয়ে সব দায় শেষ হয়েছে।
জাপানে যৌন নির্যাতনের শিকারদের কণ্ঠস্বর শোনা এখনও বিরল, তাই গোনোইয়ের পদক্ষেপকে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ২০২২ সালে ইউটিউবে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিওরি ইতো ও জনি কিটাগাওয়া’র মতো উচ্চপ্রোফাইল কেসের ফলে যৌন নির্যাতন নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গোনোইয়ের কেসও এই প্রবণতার অংশ হিসেবে গণ্য, যা সমাজে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
গোনোই সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, চার বছর অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানসিক ও সামাজিকভাবে ভারী চাপের মুখে ছিলেন। তিনি বলেন, “এই দীর্ঘ সময়ে আমি প্রথম হাতেই বুঝতে পেরেছি, কণ্ঠ তুলতে কতটা কঠিন।” তবু তিনি প্রকাশ করেন, “আমি আবারও কণ্ঠ তুলতে অনুতাপ করি না।”
মাসের শুরুতে তিনি টুইটারে (X) লিখে জানান, তার দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই শেষ হয়েছে এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া এই পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না।”
প্রাথমিকভাবে গোনোই ৫.৫ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৪০,০০০ ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন পুরুষ সৈনিকদের কাছ থেকে মানসিক কষ্টের জন্য, এবং অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ইয়েন সরকারকে চেয়েছিলেন নির্যাতন রোধে ব্যর্থতার জন্য।
২০২২ সালে তিনি ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওতে ২০২১ সালের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন, যেখানে তিনজন পুরুষ সহকর্মী তাকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে তাদের শারীরিক অংশ তার উপর চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন। তিনি এই ঘটনার পর তার ঊর্ধ্বতনকে জানিয়ে দেন, তবে তা যথাযথভাবে সমাধান হয়নি।
এই কেসে যৌন নির্যাতনের গ্রাফিক বর্ণনা রয়েছে, তাই পাঠকদের জন্য সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। গোনোইয়ের অভিজ্ঞতা এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সমাজে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজকের চুক্তি দিয়ে গোনোইয়ের নাগরিক মামলা সম্পূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে, ফলে আর কোনো আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে চলমান সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে নীতি ও প্রক্রিয়ার উন্নতি প্রত্যাশিত।



