28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্চয় সনদকে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনযোগ্য করার আহ্বান জানালেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্চয় সনদকে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনযোগ্য করার আহ্বান জানালেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. ম্যানসুর রেনেসাঁ দ্যাখা-তে অনুষ্ঠিত বন্ড মার্কেট উন্নয়ন সেমিনারে জাতীয় সঞ্চয় সনদগুলোকে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনযোগ্য করার দাবি তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

এই সেমিনারটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যৌথভাবে আয়োজন করে, যেখানে বন্ড বাজারের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ঋণ বাজারের গভীরতা ও তরলতা বৃদ্ধি করা।

গভর্নর ম্যানসুর উল্লেখ করেন, সঞ্চয় সনদগুলো যদি লেনদেনযোগ্য হয় তবে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় সেগুলো বিক্রি করতে পারবে, ফলে তাদের আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা বিনিয়োগের প্রবাহকে সহজতর করবে এবং সঞ্চয় পণ্যের আকর্ষণ বাড়াবে।

ম্যানসুর জোর দিয়ে বলেন, সঞ্চয় সনদকে লেনদেনযোগ্য করা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল নয়; কেবল নীতি স্তরে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বর্তমানে চারটি প্রকারের সঞ্চয় যন্ত্রপাতি প্রকাশ করে, যেগুলো উচ্চ সুদের হার প্রদান করে এবং বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য জনসাধারণের তহবিল সংগ্রহে ব্যবহার হয়। এই যন্ত্রপাতিগুলো সরকারী ঋণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সঞ্চয় সনদের মোট বকেয়া পরিমাণ প্রায় ৩.৪০ লাখ কোটি টাকা। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল ৩.৪৭ লাখ কোটি টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে হ্রাস পেয়েছে।

এই হ্রাসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তবে ম্যানসুরের মতে, লিকুইডিটি বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীর চাহিদা পূরণে সঞ্চয় সনদকে লেনদেনযোগ্য করা একটি সমাধান হতে পারে।

আজকের ডিজিটাল যুগে বিনিয়োগকারীরা শারীরিক ব্যাংক শাখায় না গিয়ে অনলাইন বা সেকেন্ডারি মার্কেটের মাধ্যমে সঞ্চয় সনদ কিনতে চান। ম্যানসুর উল্লেখ করেন, এই চাহিদা পূরণে সেকেন্ডারি মার্কেটের সক্রিয়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

সঞ্চয় সনদকে ট্রেডেবল করলে বাজারে নতুন তরলতা আসবে, যা বন্ড বাজারের গভীরতা বাড়াবে এবং সরকারী তহবিল সংগ্রহের খরচ কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া, বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদে রিটার্নের সুযোগ পাবে, যা মোট বাজারের আকর্ষণ বাড়াবে।

তবে এই পরিবর্তনের জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো, ক্লিয়ারিং সিস্টেম এবং ডেটা শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রয়োজন। ম্যানসুর জোর দেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আইনি দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে ঝুঁকি কমে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

গভর্নর ম্যানসুর আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে সঞ্চয় সনদের লিকুইডিটি বাড়বে এবং আরও বেশি বিনিয়োগকারী এই পণ্যটিতে আগ্রহী হবে। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

সারসংক্ষেপে, সঞ্চয় সনদকে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনযোগ্য করার প্রস্তাবটি বাজারের তরলতা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং সরকারি তহবিল সংগ্রহের কার্যকারিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে। ভবিষ্যতে এই নীতি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ঋণ বাজারে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments