28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআইসিটি-১ আজ ছয়জনের হত্যাকাণ্ডের রায় শোনাবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যাশা

আইসিটি-১ আজ ছয়জনের হত্যাকাণ্ডের রায় শোনাবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যাশা

ঢাকার চাঁখারপুলে জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত ছাত্রবিরোধী আন্দোলনের সময় ছয়জনের মৃত্যুর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) আজ রায় প্রদান করবে। রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে সেই পরিবারের সদস্যরা, যাদের সন্তান বা সন্তানদের মৃত্যু এই হিংসাত্মক ঘটনার ফল।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে চাঁখারপুলে ছাত্রবিরোধী প্রতিবাদে গুলিবর্ষণ ঘটে, যার ফলে যুবক যাকুব (যাকুব আহমেদ) সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। গুলিবর্ষণটি পুলিশ বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবিক অপরাধের দায়ে আইসিটি‑১-এ আনা হয়েছে।

যাকুবের মা রাহিমা আখতার, যিনি স্বামীকে আগে হারিয়ে গেছেন, তার একমাত্র আর্থিক ও মানসিক সমর্থন ছিলেন তার পুত্র। পুত্রের মৃত্যুর পর রাহিমা গভীর শোকের মধ্যে বসবাস করছেন এবং আজকের রায়কে তার সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার অর্জনের শেষ ধাপ হিসেবে দেখছেন।

রাহিমা আজ সকাল ১০:৩০ টার দিকে ট্রাইব্যুনালের প্রবেশদ্বার থেকে প্রবেশ করেন। তিনি অন্যান্য শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে একত্রে আদালতে উপস্থিত হয়ে রায়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

সানজিদা খান দিপ্তি, শহরিয়ার খান আনাসের মা, তার স্বামী ও সন্তানসহ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। শহরিয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বে আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আজকের রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে দাবি জানিয়েছেন।

দিপ্তি ও রাহিমা উভয়ই রায়ের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট দাবি রেখেছেন। “অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে”—এমন বক্তব্যে তারা ন্যায়বিচারকে অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধের মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই মামলাটি মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা ও মানবিক অপরাধের অভিযোগে গৃহীত হয়েছে। চাঁখারপুলে সংঘটিত হিংসা, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রবিপ্লবের অংশ হিসেবে বিবেচিত, তাতে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু পরিবার শোকাহত হয়েছে।

অভিযুক্ত আটজনের বিরুদ্ধে রায়ের অপেক্ষা চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যার অভিযোগে আইসিটি‑১-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পূর্বে শহরিয়ার ও রাহিমার পরিবারগুলো আদালতে বিস্তারিত বিবৃতি প্রদান করে মামলার প্রমাণভিত্তিক দিককে শক্তিশালী করেছে।

আইসিটি‑১-এ তিনজন বিচারক রয়েছেন, যার মধ্যে চেয়ারম্যান জাস্টিস মোঃ গোলাম মর্তজা মোজুমদার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনজনের এই বেঞ্চ আজ রায় শোনাবে, যা দেশের আইনি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।

রায়ের আগে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে উপস্থিত রয়েছে, যাতে আদালতে কোনো অশান্তি না ঘটে।

রাহিমা রায়ের মাধ্যমে কেবল তার পুত্রের নয়, পুরো আন্দোলনের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি রায় ন্যায়সঙ্গত হয়, তবে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস করবে না”। এই প্রত্যাশা দেশের মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

আজকের রায় দেশের আইনি ইতিহাসে একটি মাইলফলক হতে পারে, যা হিংসা ও মানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর দায়িত্ববোধকে দৃঢ় করবে। পরিবারগুলো রায়ের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তাদের শোকের পরিণতি নির্ধারণ করবে এবং দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা পুনর্গঠন করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments