23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যবাংলাদেশে মাদক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৮২ লাখ, ঢাকা সর্বোচ্চ, বরিশাল সর্বনিম্ন

বাংলাদেশে মাদক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৮২ লাখ, ঢাকা সর্বোচ্চ, বরিশাল সর্বনিম্ন

জাতীয় মাদক গবেষণার ফলাফল প্রকাশে জানা গেল, বর্তমানে দেশের মাদক ব্যবহারকারী প্রায় ৮.২ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। গবেষণাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তহবিলে পরিচালিত হয় এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেডের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানটি গতকাল রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউর কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

গবেষণায় আটটি বিভাগ থেকে ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মোট ৫,২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহে পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে সংখ্যাত্মক তথ্যের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতও বিশ্লেষণ করা যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাদক ব্যবহারকারীর অধিকাংশই তরুণ বয়সী। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে প্রথমবার মাদক গ্রহণকারী ৬০ শতাংশের বেশি, এবং এই প্রবণতার পেছনে বন্ধুদের প্রভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও সিগারেটকে মাদক হিসেবে গণ্য করা হয়নি, তবু তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

ভৌগোলিকভাবে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারী সংখ্যা সর্বোচ্চ, আর বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বড় শহরের আশেপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ ও ব্যবহার বাড়ার ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। শহরাঞ্চলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও, গ্রামীণ এলাকায়ও মাদক প্রবেশের হার দ্রুত বাড়ছে।

গাঁজা (ক্যানাবিস) দেশীয় মাদক ব্যবহারের শীর্ষে রয়েছে। এর পরের স্থান দখল করেছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল এবং কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ। এই পদার্থগুলো বিভিন্ন রূপে বাজারে প্রবেশ করছে এবং ব্যবহারকারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পছন্দের ধরণও পরিবর্তিত হচ্ছে।

ইনজেকশন মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা এচআইভি, হেপাটাইটিস সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করতে পারে, ফলে জনস্বাস্থ্যের উপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। গবেষকরা এই বিষয়কে এখনো আইনগত শৃঙ্খলার সমস্যার বাইরে, একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শহর ও গ্রাম উভয়ই মাদক সমস্যার মুখোমুখি হলেও, শহরাঞ্চলে ব্যবহারকারীর ঘনত্ব বেশি, যা সরবরাহের সহজলভ্যতা ও গোপনীয়তার সুবিধা থেকে উদ্ভূত। তবে গ্রামীণ এলাকায় মাদক প্রবেশের পথ সম্প্রসারিত হওয়ায়, সেখানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও বড় শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক লেনদেনের ঝুঁকি বেশি, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

গবেষণার প্রধান গবেষক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী উল্লেখ করেন, মাদক সমস্যাকে এখনো শুধুমাত্র অপরাধমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং একটি ব্যাপক জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারিক সমর্থন ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি অপরিহার্য।

মাদক ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বৃদ্ধি এবং সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আপনি কি মনে করেন, বর্তমান নীতি ও প্রোগ্রামগুলো তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট কার্যকর? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনা চালিয়ে যান।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments