বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সোমবার সকালবেলা ঢাকা শহরের অফিসে উপস্থিত ছিলেন, যদিও সামাজিক মাধ্যমে দেশের বাইরে গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের মূল সূত্রে বলা হয় তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গিয়ে বাস করছেন।
সেই গুজবের পরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয় যে তিনি দেশের সীমা ছেড়ে গেছেন। তবে একই সময়ে তিনি নিজে অফিসে এসে কাজের দায়িত্ব পালন করছেন, যা গুজবের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গুজবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রকাশ্যে জানান যে তার অবস্থান জানানো জরুরি নয় এবং তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করছেন কিনা তা নিয়ে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসা অপ্রয়োজনীয়। তিনি ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষার আহ্বানও জানান।
এই ঘটনার পটভূমিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি অস্থির। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণের অনুমোদন এখনও নিশ্চিত নয়, যা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিষয়টি তীব্রতর হয়েছে যখন বোর্ডের একজন পরিচালকের পদত্যাগের খবর প্রকাশ পায়। একই সঙ্গে আরেকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন এই ধরনের সমস্যার উপস্থিতি ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। বোর্ডের নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ছে।
গুজবের মধ্যে উল্লেখ করা হয় যে আমিনুলের পরিবার বহু বছর ধরে মেলবোর্নে বসবাস করে আসছে। তিনি পূর্বে কয়েকবার মেলবোর্নে গিয়ে কাজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অনলাইন মাধ্যমে অফিসের কাজ চালিয়ে গেছেন।
মেলবোর্নে তার পরিবারিক ভিত্তি থাকলেও, দেশের ক্রিকেটের সংকটের সময় তিনি দেশে ফিরে কাজ চালিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। তবে তার এই উপস্থিতি গুজবকে তীব্রতর করে তুলেছে, বিশেষ করে যখন জাতীয় নির্বাচনের আগে তার অবস্থান নিয়ে অজানা প্রশ্ন রয়ে যায়।
মিডিয়া ব্লক থেকে মূল কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বললেন, “কি মনে হচ্ছে, আমি কি দেশের বাইরে?” এই উত্তরটি গুজবের তীব্রতা কমাতে যথেষ্ট নয়।
বিসিবি পরিচালকের দায়িত্বের মধ্যে দেশের ক্রিকেট নীতি নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমোদন এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান সংকটে তার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে তার পরিবারিক অবস্থান তাকে মাঝে মাঝে বিদেশে কাজ করতে সহায়তা করেছে। তবে তার কাজের পদ্ধতি—অনলাইন মিটিং ও দূরবর্তী ব্যবস্থাপনা—দলীয় সমন্বয় বজায় রাখতে সাহায্য করেছে বলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়।
গুজবের মধ্যে আরও একটি দিক হল তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে না আসতে পারেন এমন অশান্তি। কিছু বিশ্লেষক এই সময়ে তার অনুপস্থিতি দেশের ক্রিকেট নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত করেন।
সামাজিক মাধ্যমে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তোলপাড় চলতে থাকে, যেখানে বিভিন্ন সূত্র থেকে তার অবস্থান ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে অফিসে তার সরাসরি উপস্থিতি গুজবের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দূর করতে পারে না।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেশে উপস্থিতি ও গুজবের প্রতিক্রিয়া দেশের ক্রিকেটের বর্তমান সংকটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দাবি এবং বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি একসঙ্গে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।



