রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে মেইনের ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের সময় দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোফ্যান জেট বম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ ধসে পড়ে। ঘটনায় মোট আটজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে কিছু আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পাঠিয়ে দ্রুত অগ্নি নিভিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
বিমানটি মাটিতে আঘাতের পর সঙ্গে সঙ্গে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখা যায়, ফলে বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিস্তৃত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়। স্থানীয় ফায়ার ফোর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে এবং কোনো প্রাণহানি নিশ্চিত করা যায়নি।
বিমানবন্দরের মেটেরিয়াল রেকর্ডে উল্লেখ আছে যে, দুর্ঘটনার মুহূর্তে হালকা তুষারপাত শুরু হয়েছিল। তবে, বর্তমান পর্যন্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি সরাসরি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
মেইনের বেশিরভাগ অঞ্চলে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতা জারি রয়েছে, এবং ব্যাঙ্গর শহরটি রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে বিশেষ মনোযোগের অধীনে রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, তাপমাত্রা হ্রাস এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা উড্ডয়ন নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এখনো স্পষ্ট নয়।
বিমানটি টেক্সাস থেকে মেইনে উড়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানা টেক্সাসের হিউস্টনে রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে উড্ডয়নটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল। এছাড়া, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি প্রতিনিধিত্বের জন্য আর্নল্ড অ্যান্ড ইটকিন নামের আইন সংস্থার ঠিকানাও হিউস্টনের সাথে মিলে যায়।
বম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ মডেলটি প্রথমবার এয়ারোস্পেসে এপ্রিল ২০২০ সালে সেবা শুরু করে। এই মডেলটি দুই ইঞ্জিনের টার্বোফ্যান জেট হিসেবে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত উড্ডয়নের জন্য জনপ্রিয়, তবে এর বয়স এবং রক্ষণাবেক্ষণ ইতিহাস তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) দুজনেই এই ঘটনার তদন্তে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। উভয় সংস্থা একসাথে ডেটা রেকর্ড, রেকর্ডার এবং সাক্ষী বিবরণ সংগ্রহ করে মূল কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনা গুলো নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্মূল্যায়নের দিকে দৃষ্টিপাত বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ও এশীয় এয়ারলাইনগুলো এই ধরনের ঘটনার পর নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনঃপর্যালোচনা করছে, যা দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
একজন আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “এই ধরনের ব্যক্তিগত জেটের দুর্ঘটনা শিল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ মানের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে, এবং তা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিকে তীব্র করবে।” তিনি আরও বলেন, তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ উড্ডয়নের জন্য নীতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে তথ্য প্রদান করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তদন্তে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ ধরনের তথ্য শেয়ারিং বিমান নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের মতে, প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল বা পরিবেশগত কারণের সম্ভাবনা সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। তদন্তের প্রথম পর্যায়ে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) বিশ্লেষণ করা হবে, যা ঘটনার সঠিক সময়রেখা প্রকাশ করবে।
প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃপর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে শুরু হয়েছে। এ ধরনের আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে উড্ডয়ন অনুমোদন, রক্ষণাবেক্ষণ চেক এবং পাইলট প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সংশোধনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।



