চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার প্রাক্তন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিনকে গত শুক্রবার হুমকি সম্বলিত অডিও পাঠানো হয়। অডিওটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রেরিত এবং প্রায় দুই মিনিট ত্রিশ সেকেন্ড দীর্ঘ। এতে আঞ্চলিক ভাষায় গালিগালাজের সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে, যেখানে শোনানো যায় “৫০ হাজার পুলিশ থাকলেও ঘরে গিয়ে তোরকে মেরে ফেলব” এবং “তোর ভাইকে দশ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি”।
হুমকি অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আজিজ তা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের কাছে জানিয়ে দেন। তিনি জানান যে অডিওটি তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং এতে অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছে মোবাবারক হোসেন, যাকে স্থানীয় মিডিয়া “ইমন” নামে চেনে। মোবাবারক হোসেনকে চট্টগ্রামের পরিচিত অপরাধী সাজ্জাদ হোসেন, যাকে “ছোট সাজ্জাদ” বলা হয়, তার ডান হাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাবারকের সম্পর্ক বহুবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখিত হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামে গৃহহত্যা, চাঁদাবাজি এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঘটনার নামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ তার সঠিক অবস্থান নির্ধারণে অক্ষম।
আজিজ উদ্দিনের পটভূমি উল্লেখযোগ্য। তিনি পূর্বে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিএনপি প্রার্থীর সহকর্মী সরোয়ার হোসেনের ছোট ভাই। সরোয়ার হোসেনকে “সন্ত্রাসী” বলে চিহ্নিত করা হয় এবং তার মৃত্যুর পর আজিজের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অডিওটি পাওয়ার পর আজিজ তা সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে হস্তান্তর করেন। পুলিশ জানায় যে অডিওটির কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। বর্তমানে মোবাবারক হোসেনের সন্ধানে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো ধরা পড়েনি।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ফোনে হুমকি দেওয়া অপরাধ দণ্ডনীয় এবং বাংলাদেশ দণ্ডসংহিতা ও আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য। হুমকি প্রদানকারীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হলে, তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা অডিওর ফোরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে কণ্ঠস্বরের উৎস ও রেকর্ডিং ডিভাইসের তথ্য বের করা যায়।
পুলিশের মতে, মোবাবারক হোসেনের পূর্বে একই ধরণের হুমকি ও হিংসাত্মক কাজের রেকর্ড রয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তার নাম শোনা যায়, বিশেষ করে গোপনীয় চুক্তি ও গ্যাং কার্যক্রমে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তার সঠিক ঠিকানা ও বর্তমান অবস্থান নির্ধারণে এখনও বাধা রয়েছে।
অধিকন্তু, শ্রমিক নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হুমকি বাড়ার প্রবণতা নিয়ে নিরাপত্তা দপ্তর সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে হুমকি ও সহিংসতা শ্রমিক সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিচারিক প্রক্রিয়ার দিক থেকে, হুমকি অডিওটি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আদালতে ফৌজদারি দায়ের প্রস্তাব করা হবে, যাতে হুমকি প্রদানকারীকে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হুমকি প্রদানকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তারা বলেছে যে হুমকি ও সহিংসতার শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সারসংক্ষেপে, আজিজ উদ্দিনকে হুমকি অডিও পাঠানো একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং মোবাবারক হোসেনের সন্ধানে পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



