বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিকের রাহমান চট্টগ্রামের পোলো গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে দুর্নীতি ও আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার ফিরে এলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।
সমাবেশে উপস্থিতি শত শত হাজারেরও বেশি মানুষ বলে অনুমান করা হয়। তরিকের রাহমানের বক্তৃতা দুপুরের কাছাকাছি শুরু হয়, যেখানে তিনি উপস্থিত ভক্তদের সরাসরি লক্ষ্য করে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করে রাখা হয় এবং আশেপাশের রাস্তা পর্যন্ত ভিড় ছড়িয়ে পড়ে।
তরিকের রাহমান শনিবার রাতেই চট্টগ্রামে পৌঁছান, যা তার ২১ বছর পরের প্রথম সফর। তার আগমনের পর সকালের তাড়াতাড়ি পার্টি নেতারা ও সমর্থকরা রঙিন জোয়ারে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যাত্রা চালিয়ে পোলো গ্রাউন্ডে সমাবেশের প্রস্তুতি নেন। দশটায়ই ভিড় জমে যায় এবং পরের ঘণ্টায় রাস্তা ভরিয়ে ওঠে।
বক্তৃতার মাঝখানে তরিকের রাহমান চট্টগ্রামের সঙ্গে তার পারিবারিক সংযোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার পিতামহ আনিসুর রহমান জিকো ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, আর তার মা খালেদা জিয়া এই শহরে জাতীয় নেতারূপে স্বীকৃত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তিনি পার্টির গর্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
সমাবেশে তিনি বিএনপি প্রার্থী পরিচয় করিয়ে দেন এবং ভোটের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন শৃঙ্খলা না থাকলে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি ও নিরাপত্তা দুইটি বিষয়েই কঠোর মনোযোগ দিতে হবে, অন্যথায় পার্টির লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব।
তরিকের রাহমান স্পষ্ট করে বলেন, আইন অনুযায়ী অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি যুক্তি দেন, দুর্নীতির মাধ্যমে পরিকল্পনা ব্যাহত করা ব্যক্তিদের কোনো রকম অব্যাহতি দেওয়া হবে না, এবং দেশের আইনই একমাত্র বিচারিক মানদণ্ড।
চট্টগ্রামের সমাবেশের পর তরিকের রাহমান দুপুর ১২:৪৫ টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আরেকটি সমাবেশে উপস্থিত হন। এখানে তিনি পার্টির নেতৃবন্দ ও কর্মীদের সতর্ক করেন, কোনো অবৈধ কাজের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, যখন বিএনপি শাসনকালে কিছু নেতা ও কর্মী অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখনই তাদের আইনসামনে আনা হয়। তরিকের রাহমান জোর দিয়ে বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে এখন সকল সদস্যকে আইন মেনে চলতে হবে।
বক্তৃতায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করে ধরা পড়ে, তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং কেউই তাকে রক্ষা করতে পারবে না, এমনকি তিনি নিজেও হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। এই বক্তব্যে তিনি পার্টির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার সংকল্প প্রকাশ করেন।
বিএনপি এই সময়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দুর্নীতি-মুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। তরিকের রাহমানের এই ঘোষণাকে পার্টির কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যেখানে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা মূল থিম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে, শাসনকালে আওয়ামী লীগ সরকার এখনও তরিকের রাহমানের এই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কোনো সরাসরি মন্তব্য দেয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের ঘোষণা পার্টির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তরিকের রাহমানের চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সমাবেশে দুর্নীতি শূন্য সহনশীলতা ও আইন ভঙ্গের শূন্য সহনশীলতা নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যা বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে।



