ঢাকা শহরে গতকাল জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শাফিকুর রহমান র্যালির মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ভোটে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু গোষ্ঠী হারের আশঙ্কা করে ভোটের সময় অনিয়মের পথে অগ্রসর হতে পারে এবং এমন কোনো প্রচেষ্টা রোধে দল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রথম র্যালি ঢাকা‑৪ ও ঢাকা‑৫ নির্বাচনী কমিটির আয়োজনে জাত্রাবাড়ির কাজলা পারে অনুষ্ঠিত হয়। শাফিকুর সেখানে উপস্থিত ভক্তদের সামনে দলীয় মিশনকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করে, রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার কথা জানান।
র্যালিতে তিনি বলেন, “কিছু লোক হারের ভয়ে বিকৃত পথে চলতে পারে” এবং কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির নাম না তুলে, সকলকে যুক্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসতে আহ্বান জানান। তিনি অতীতের জুলাই আন্দোলনের স্মরণ করিয়ে দিয়ে, “যদি তারা থামে না, তবে জুলাইয়ের যোদ্ধারা নিদ্রা থেকে জাগবে” বলে সতর্ক করেন।
শাফিকুরের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সময়ে দেশের নতুন ‘পেশা’ হিসেবে ঘুষ ও জবরদস্তি বেড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের কাজ থেকে সরে এসে সৎ উপার্জনের পথে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় জামায়াত-এ-ইসলামি কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
দলীয় নেতৃত্বের মতে, যারা অবৈধ উপার্জনে লিপ্ত, তাদের জন্য হালাল জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে, আর যদি তারা পরিবর্তন না করে, তবে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এই নীতি অনুসারে, দল ন্যায়বিচার রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায়।
শাফিকুর নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানী ও প্রধান শহরে সন্ধ্যায় নারীদের জন্য বিশেষ বাস সেবা চালু হবে, যাতে রাত্রিকালীন যাতায়াতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এছাড়া, কর্মস্থলে ও জনসাধারণে কোনো ধরনের হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
দ্বিতীয় র্যালি ধোপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি তরুণদের দেশের নেতৃত্বে আসার আহ্বান জানান। শাফিকুর বলেন, “যুবক-যুবতীকে দেশের দায়িত্বে রাখতে চাই, যারা ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের জন্য এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি ১২ তারিখের ভোটে কোনো অনিয়মকারীকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে, তা স্পষ্ট করেন।
শাফিকুরের ভাষণে তিনি যুবকদের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার, শিশুদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মরত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি কেউ ভোটে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে তার হাত কেটে ফেলতে হবে।”
দলটি দুর্নীতি ও জবরদস্তি নির্মূলের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যাতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। শাফিকুরের মতে, এই নীতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি হবে এবং সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
র্যালির শেষে শাফিকুর উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষায় ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন প্রয়াস চালাবে। তিনি দলীয় কর্মীদেরকে নির্দেশ দেন, যেন তারা ভোটের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
এই র্যালিগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামি ন্যায়পরায়ণতা, যুবক-যুবতীর অংশগ্রহণ এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



