ভেনেজুয়েলা সরকারের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গত রবিবার আনজোয়াতেগুই রাজ্যের তেল শ্রমিকদের সমাবেশে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের (মার্কিন সরকার) থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা যথেষ্ট এবং অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধ সমাধানে বিদেশি হস্তক্ষেপ আর দরকার নেই।
মার্কিন সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। এই পদক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলা সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ডেলসি রদ্রিগেজের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্ত ‘যথেষ্ট’ নির্দেশের কথা পুনরায় জোর দেন। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত পরামর্শ ও নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ট, আর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।
আনজোয়াতেগুইতে তেল শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি যে ভাষণ দেন, তাতে তিনি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে আহ্বান জানান। রদ্রিগেজ উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্বের সমাধান নিজস্বভাবে করা উচিত, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হলে, ভেনেজুয়েলা সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখতে পারবে। রদ্রিগেজের এই মন্তব্য দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত করে, কারণ কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনও প্রয়োজনীয় বলে মনে করে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকারের কিছু বিশ্লেষক রদ্রিগেজের মন্তব্যকে স্বাগত জানান, কারণ এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকেত দেয়। তারা যুক্তি দেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণ করা দেশের স্বায়ত্তশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিপরীতভাবে, কিছু বিরোধী গোষ্ঠী রদ্রিগেজের বক্তব্যকে সমালোচনা করে, দাবি করে যে মার্কিন সরকারের নির্দেশনা যথেষ্ট না হলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তারা যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া ভেনেজুয়েলা সরকার একা সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম নাও হতে পারে।
ডেলসি রদ্রিগেজের এই মন্তব্যের পর, ভেনেজুয়েলা সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও একই রকম অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা সবাই একমত যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে বিদেশি হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
মার্কিন সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভেনেজুয়েলা সরকারের এই অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া কঠিন হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য এখনও দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনকে সমর্থন করা। তবে, রদ্রিগেজের স্পষ্ট বক্তব্য ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছে, যাতে দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। রদ্রিগেজের ভাষণ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি ভেনেজুয়েলা সরকার সত্যিই বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজস্ব সমাধান খুঁজে পায়, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরে ধীরে শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও বাণিজ্যিক ও তেল রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষে, ডেলসি রদ্রিগেজের মন্তব্য ভেনেজুয়েলা সরকারের স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সমাধান নিজস্বভাবে করার আহ্বান জানিয়ে, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এই অবস্থান ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গঠনকে প্রভাবিত করবে।



