28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিক্ষমতা চার্জের অতিরিক্ত খরচ বছরে $১.৫ বিলিয়ন, চুক্তি পুনর্বিবেচনা না করলে $৭.২...

ক্ষমতা চার্জের অতিরিক্ত খরচ বছরে $১.৫ বিলিয়ন, চুক্তি পুনর্বিবেচনা না করলে $৭.২ বিলিয়ন অতিরিক্ত ব্যয়

আওয়ামী লীগ শাসনকালে স্বাক্ষরিত অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলি পর্যালোচনা করতে গঠিত জাতীয় কমিটি প্রকাশ করেছে যে, ক্ষমতা চার্জের অতিরিক্ত পরিমাণে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর প্রায় $১.৫ বিলিয়ন ক্ষতি ভোগ করছে। এই অতিরিক্ত খরচের মূল কারণ হল ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য চুক্তিতে নির্ধারিত উচ্চ ফি এবং অন্যান্য আর্থিক শর্ত।

কমিটি, যা সরকারী ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত, চুক্তিগুলির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা যাচাইয়ের জন্য কাজ করছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, মোট ৪১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি এই সমস্যার অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই চুক্তিগুলি পুনরায় আলোচনা না করা হয়, তবে বাকি মেয়াদে অতিরিক্ত $৭.২ বিলিয়ন ব্যয় হতে পারে। এই পরিমাণ দেশের বাজেটের উপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

প্রতিবেদনের শিরোনাম “Bangladesh’s Power Generation: Trapped Costly Contracts: Governance Failures and the Mechanics of Rent Extraction” এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত মুনাফার সম্ভাবনা করাপশন, জোটবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

২০১০ সালে প্রণীত “কুইক এনহ্যান্সমেন্ট অফ ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড এনার্জি সাপ্লাই (স্পেশাল প্রভিশনস) অ্যাক্ট” মূলত তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়। এই আইনটি প্রকল্প অনুমোদন ও ক্রয় প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার জন্য বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছিল।

আইনের অধীনে পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট অ্যাক্ট থেকে ছাড়, বিচারিক পর্যালোচনার সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষ আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছিল। ফলে চুক্তি প্রস্তুত ও অনুমোদনের সময় স্বচ্ছতা কমে যায় এবং দুর্নীতির সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

যদিও এটি অস্থায়ী জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল, তবে ধারাবাহিক বর্ধিতকরণের মাধ্যমে ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি কার্যকর রয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রক্রিয়ার প্রধান আইনি কাঠামোতে পরিণত হয়।

এই আইনের কাঠামো স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং বিচারিক পর্যালোচনা থেকে আলাদা একটি সমান্তরাল ক্রয় ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ফলে বাজারে স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে যায়।

সময়ের সাথে সাথে এই ব্যতিক্রমী পদ্ধতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, এবং প্রতিযোগিতামূলক চাপের অভাবে অবকাঠামো বাজারে খরচ নিয়ন্ত্রণের মূল প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।

চুক্তিগুলিতে গ্যারান্টি করা ক্ষমতা পেমেন্ট, টেক-অর-পে ধারা, জ্বালানি মূল্যের পাস-থ্রু, বিদেশি মুদ্রা সূচকায়ন এবং সার্বভৌম গ্যারান্টি ইত্যাদি শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

বিপক্ষের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের শর্তাবলী দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। তারা দাবি করেন যে, দ্রুত পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে এই অতিরিক্ত ব্যয় কমানো সম্ভব।

পরবর্তী ধাপে, বাংলাদেশ সরকারকে চুক্তিগুলির পুনর্মূল্যায়ন শুরু করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার চালু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে, কারণ এটি পূর্ববর্তী শাসনকালের নীতি ও সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়নকে নির্দেশ করে।

যদি সফলভাবে পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে শর্তাবলী সংশোধন করা যায়, তবে দেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভার হ্রাস পাবে এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। অন্যথায়, অতিরিক্ত ব্যয় দেশের বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং রাজনৈতিক বিরোধকে তীব্র করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments