রংপুর শহরের রাধাবল্লভ এলাকায় রবিবার বিকেলে (২৫ জানুয়ারি) ছাত্রশিবিরের কিছু সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া দেখা দেয়। ঘটনাটি স্থানীয় দোকানদার রেজাউল ইসলাম তার দোকান পরিষ্কার করার সময় কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে কথোপকথনে রূপ নেয়।
বিবাদ তীব্র হওয়ায় রেজাউলকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং মাথায় আঘাতের ফলে রক্তপাত দেখা দেয়। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানে চিকিৎসা চালু রয়েছে।
এই ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘর্ষে দুইজন শিবির কর্মী, আলিফ ইমরান ও সিহাব ইসলাম, আহত হন। একই সঙ্গে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাও আহত হয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি হন।
শিবিরের নেতা মোহাম্মদ আতিক জানান, ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক বিরোধের ফল নয়; এটি এক দোকানদারের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী সংঘর্ষের পরিণতি। তিনি উল্লেখ করেন, আহতদের মধ্যে কিছুই গুরুতর নয়, তবে চিকিৎসা প্রয়োজন।
বিকালের দিকে শিবিরের কর্মীরা রাধাবল্লভ প্রাইমারি স্কুলের সামনে সমাবেশ করে স্লোগান শোনাতে শুরু করেন। সমাবেশের সময় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হলে দু’পক্ষের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।
কিছু মুহূর্তের মধ্যেই শিবিরের কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে চারজন সাংবাদিক শারীরিক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আহতদের মধ্যে দীপ্ত টিভির রংপুর জেলা প্রতিনিধি ফেরদৌস জয়, দেশ নিউজের বিশেষ প্রতিবেদক মেহেদি হাসান, চ্যানেল ওয়ানের চিত্র সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম মুকুল এবং একাত্তর টেলিভিশনের রংপুর সদর প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন সুমন অন্তর্ভুক্ত।
আহত সাংবাদিকরা রংপুর জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে প্রতিবাদসূচক সমাবেশ করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করা ও প্রতিবেদন করার পরিবেশের অভাবের কথা উল্লেখ করে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা তিনটি মূল দাবি তুলে ধরেন: প্রথম, সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লিখিত বিবৃতি দিতে হবে; দ্বিতীয়, নির্বাচন কমিশনকে মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে; তৃতীয়, আক্রমণের দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
শিবিরের রংপুর মহানগর সাভাপতি নুরুল হুদার সঙ্গে ফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই অমিলের ফলে মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, শিবিরের কিছু সদস্যকে অপরাধমূলক দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা রেজাউল ইসলাম ও অন্যান্য আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
এই ঘটনার পর রংপুরের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক এলাকা থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



