বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এখনো অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখে, যখন জাতীয় দলকে আসন্ন ICC পুরুষ ট২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব ক্রিকেটার সমিতি (WCA) গেমের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
WCA-র প্রকাশে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তটি ক্রিকেটের জন্য এক দুঃখজনক সময়। সমিতি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।
বহু ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য এই বাদ পড়া একটি বড় ধাক্কা, যা দেশের ক্রীড়া পরিবেশে বিশাল অশান্তি সৃষ্টি করেছে। টুর্নামেন্টে অংশ না নিতে পারা শুধু একটি ম্যাচের ক্ষতি নয়, বরং দেশের ক্রিকেটের গর্বের ওপরও আঘাত।
প্রাক্তন জাতীয় ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে BCB অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত দু’দিক থেকে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে ক্রিকেটই সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারে।
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া শুধুমাত্র এক ক্ষতি নয়; দেশীয় ক্রিকেটের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) শেষ হয়েছে, তবুও তার পরেও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
টুর্নামেন্টের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ‑ফিক্সিং সংক্রান্ত একটি স্ক্যান্ডাল প্রকাশ পায়, যা দেশের ক্রিকেটে নতুন এক অস্বাভাবিকতা যোগ করে। এই অভিযোগের ফলে BCB-র সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিবাদে জড়িত BCB পরিচালক মুহাম্মদ মুকলেসুর রহমানকে অডিট কমিটি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তিনি এই পদত্যাগের পরই সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আর কোনো ভূমিকা পালন করছেন না।
একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি উপদেষ্টা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সরাসরি ম্যাচ‑ফিক্সিং অভিযোগ উত্থাপন করেন, যা জনমতকে আরও বিভ্রান্ত করে এবং বিশ্বাসের ফাটলকে গভীর করে।
শুক্রবারের বোর্ড মিটিংয়ের পরে প্রভাবশালী পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগের খবর প্রকাশ পায়। তার পদত্যাগের পেছনে আরও কিছু পরিচালক পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
বোর্ডের সভাপতি ও অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে মতবিরোধ এবং ব্যক্তিগত সংঘাতগুলো এখনো গোপন নয়; এগুলো প্রকাশ্য রূপে রূপান্তরিত হয়েছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিবাদিত ব্যক্তিত্ব এম নাজমুল ইসলাম, যিনি ক্রিকেটারদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের পর ফাইন্যান্স কমিটি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলেন, BPL শেষে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। এই ঘটনা বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্বকে স্পষ্ট করে।
ঢাকা ক্লাব ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও বিরোধ এখনো সমাধানহীন, এবং ট২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া এই সমস্যাগুলোর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া, ম্যাচ‑ফিক্সিং স্ক্যান্ডাল এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখনই সময় এই অস্থিরতা সমাধান করে দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার।



