27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কিছু এলাকায় আজ গ্যাস সরবরাহ ৭ ঘণ্টা বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কিছু এলাকায় আজ গ্যাস সরবরাহ ৭ ঘণ্টা বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আজ সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বন্ধের সময়কাল মোট সাত ঘণ্টা, যা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জরুরি মেরামত কাজের জন্য নির্ধারিত। গ্যাসের অপ্রাপ্যতা গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মেরামত কাজের কারণে গ্যাস লাইনগুলো সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে। কোম্পানি উল্লেখ করেছে, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এই ধরনের পরিকল্পিত বন্ধের আগে গ্রাহকদের জানানো হয়েছে, যাতে তারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আওতায় অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো হল বিজেস্বর ও ভাদুঘর, কাউতলী ও পাইকপাড়া, মেড্ডা ও নাটাই, গোকর্ণঘাট, বিরাসার ও ঘাটুরা এবং সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো। এই অঞ্চলগুলোতে গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের মূল শাখা রয়েছে, যা ঘরোয়া রান্না, গরম পানি এবং ছোট শিল্পের জ্বালানির প্রধান উৎস।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গ্যাস নেটওয়ার্কের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এইবারের মেরামত কাজটি লিকেজ সনাক্তকরণ, পাইপলাইন সিলিং এবং ভ্যালভের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে সিস্টেমের স্থায়িত্ব বাড়াবে। তবে, কাজের সময়সূচি অনুসারে বন্ধের সময়কাল সাত ঘণ্টা নির্ধারিত, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাবে।

গৃহস্থালির ক্ষেত্রে গ্যাসের অপ্রাপ্যতা রান্না ও গরম পানির সমস্যার সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে শীতল মাসে গরম পানির বিকল্প হিসেবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে তাত্ক্ষণিকভাবে ইলেকট্রিক হিটার বা কেটলি ব্যবহার করতে হবে, যা বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়লে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসা, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, চা ঘর এবং ছোট উৎপাদন ইউনিটগুলো গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ীভাবে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা বৈদ্যুতিক কুকার ব্যবহার করতে হবে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে। তাছাড়া, গ্যাসের বিকল্প ব্যবহারে কর্মচারীর সময়সূচি ও সেবা মানে প্রভাব পড়তে পারে, যা গ্রাহক সন্তুষ্টি ও বিক্রয় আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিকল্প জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেলে এলপিজি সরবরাহকারী ও বিদ্যুৎ কোম্পানির বিক্রয় বাড়তে পারে। তবে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সময়কাল স্বল্প হওয়ায় এই পরিবর্তন সাময়িক বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণ উন্নত হলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং গ্যাসের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জন্য এই বন্ধের ফলে স্বল্পমেয়াদে বিক্রয় হ্রাস এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধি পাবে। তবে, মেরামত কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে লিকেজ ও সিস্টেম ডাউনটাইম কমে গেলে, কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী আয় ও গ্রাহক সন্তুষ্টি উন্নত হবে। এই ধরনের পরিকল্পিত বন্ধের ফলে কোম্পানির সুনাম বজায় রাখতে সময়মতো তথ্য প্রদান ও দ্রুত পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ।

অঞ্চলের গ্যাস চাহিদা সামগ্রিকভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক সেক্টরে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে পরিকল্পনা না হলে সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই, গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ও গ্রাহক যোগাযোগের দক্ষতা ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি।

গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জানানো হয়েছে যে, কাজ শেষ হওয়ার পর গ্যাস স্বাভাবিকভাবে পুনরায় চালু হবে। এই সময়ে গ্রাহকদের বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে, গ্যাসের পুনরায় প্রবেশে সহায়তা করা প্রত্যাশিত। শেষ পর্যন্ত, পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে গ্যাস নেটওয়ার্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে, যা ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধের ঝুঁকি কমাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments