সোনার আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্সের দাম $5,000 (প্রায় £3,659) অতিক্রম করেছে, যা ঐতিহাসিকভাবে প্রথমবারের ঘটনা। এই স্তরে পৌঁছানো মূলত ২০২৫ সালে সোনার মূল্যের ৬০%‑এর বেশি বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক জিও‑পলিটিক্যাল উত্তেজনার সমন্বয়ে ঘটেছে।
২০২৫ সালে সোনার দাম প্রায় $3,000 থেকে $5,000‑এর উপরে উঠে, মোট ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের শুরুর দিকে দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, শেষের দিকে ধারাবাহিকভাবে উপরের দিকে গতি পায়।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো (ন্যাটো) এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত উত্তেজনা আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ভূ‑রাজনৈতিক ঝুঁকি সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পুনরায় জনপ্রিয় করেছে, ফলে চাহিদা তীব্রভাবে বাড়ছে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) এই বছর আবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। সুদের হারের হ্রাস সোনার আকর্ষণ বাড়ায়, কারণ কম সুদে নগদ সম্পদে আয় কমে যায় এবং বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো সুদের হার-নিরপেক্ষ সম্পদে ঝুঁকি স্থানান্তর করে।
বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সোনার ক্রয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক, চীন人民银行 এবং অন্যান্য দেশীয় ব্যাংকগুলো সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য বড় পরিমাণে ক্রয় করেছে, যা বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করেছে।
সোনা ঐতিহ্যগতভাবে ‘সেইফ‑হেভেন’ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়; অর্থাৎ অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রা অবমূল্যায়ন বা সুদের হ্রাসের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈশিষ্ট্যটি পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে, ফলে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছে।
বাজারের তত্ত্বাবধায়করা লক্ষ্য করছেন যে, সোনার দামের এই উত্থান শেয়ারবাজার ও মুদ্রা বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ সোনার দাম বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি-হ্রাস কৌশলকে শক্তিশালী করে, ফলে শেয়ারবাজারে প্রবাহিত মূলধন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে, ডলার ও ইউরোর মতো প্রধান মুদ্রার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে, কারণ সোনার দাম প্রায়শই মুদ্রা শক্তির সঙ্গে বিপরীতমুখী সম্পর্ক রাখে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, যদিও বর্তমান প্রবণতা সোনার দামকে উচ্চ স্তরে ধরে রাখতে পারে, তবে জিও‑পলিটিক্যাল উত্তেজনা হ্রাস বা ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। এমন কোনো পরিবর্তন সোনার চাহিদা কমিয়ে দামকে স্থিতিশীল বা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সোনার দাম $5,000 অতিক্রম করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা জিও‑পলিটিক্যাল উত্তেজনা, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় কার্যক্রমের সমন্বয়ে গঠিত। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রবণতা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।



