ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদীর ওপর ২০২২ সালের আগস্টে নিউ ইয়র্কের চৌটাকুয়া শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আক্রমণ ঘটার পর, আলেক্স গিবনি পরিচালিত নথি চলচ্চিত্র “Knife: The Attempted Murder of Salman Rushdie” তৈরি করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি আক্রমণের ঘটনার বিশদ এবং রুশদীর শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে। এতে দর্শককে ঘটনাটির গভীরতা ও মানবিক দিক উভয়ই অনুভব করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
রুশদী ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে ধর্মীয় উগ্রতাবাদী গোষ্ঠীর তীব্র বিরোধের মুখে ছিলেন। ঐ বইটি বহু দেশে ধর্মীয় নেতাদের আক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং রুশদী বহুবার হুমকির শিকার হয়েছেন। এই পটভূমি আক্রমণের প্রেরণাকে আরও স্পষ্ট করে।
সেই ঘটনার দিনে ২৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মঞ্চে দ্রুত ছুটে এসে রুশদীকে পনেরোবার ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। আক্রমণটি তৎক্ষণাৎ দর্শক, নিরাপত্তা কর্মী এবং জরুরি সেবা কর্মীদের হস্তক্ষেপে থামানো হয়। ছুরির আঘাতের ফলে রুশদীর শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আক্রমণকারী পূর্বে কোনো অপরাধ রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় উগ্রতাবাদী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রুশদীর কাজকে ‘অশ্লীল’ বলে বিবেচনা করতেন। তার উদ্দেশ্য ছিল রুশদীর জীবনের শেষ করে দেওয়া, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
আক্রমণ থামানোর জন্য নিরাপত্তা কর্মী ও মেডিকেল টিম দ্রুত মঞ্চে ছুটে এসে রুশদীর ক্ষতগুলো সাময়িকভাবে রোধ করে এবং তাকে জরুরি সেবা গাড়িতে নিয়ে যায়। দর্শকগণ আতঙ্কিত হলেও দ্রুত সাহায্যের জন্য সমবেত হয়ে কাজ করে, এবং কিছুজন প্রথমে রুশদীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা আক্রমণকে দ্রুত শেষ করতে সহায়তা করে।
রুশদীকে পেনসিলভানিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি গুরুতর আঘাতের পর শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। শারীরিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থনের জন্য বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়, এবং রোগীর পাশে পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতি পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করে। হাসপাতালের চিকিৎসা দল রুশদীর শারীরিক ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
চলচ্চিত্রে আক্রমণের দৃশ্য সরাসরি না দেখিয়ে, অ্যানিমেটেড লাইন ড্রয়িং ব্যবহার করে ঘটনাটিকে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যা দর্শকের কল্পনা সক্রিয় করে এবং আঘাতের তীব্রতা প্রকাশ করে। এই পদ্ধতি ঘটনার ভয়াবহতা ও মানবিক দিক উভয়ই তুলে ধরতে সহায়তা করে, পাশাপাশি শোবার ঘরে বসে থাকা দর্শকদের জন্য দৃশ্যটি কম শকিং করে। অ্যানিমেশনটি রুশদীর বর্ণনার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ভিজ্যুয়াল কবিতা রূপে উপস্থাপিত হয়েছে।
ফিল্মের বর্ণনা রুশদীর ২০২৪ সালের স্মৃতিকথা ‘Knife: Meditations After an Attempted Murder’ থেকে নেওয়া স্বরবর্ণের মাধ্যমে গঠিত, যেখানে তার নিজের শব্দগুলোকে দৃশ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কবিতাময় বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে। তার স্মৃতিকথার অংশগুলোকে ভয়েসওভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ঘটনার তীব্রতা ও তার অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে সরাসরি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রকে আরও ব্যক্তিগত ও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
রুশদীর স্ত্রী র্যাচেল এলিজা গ্রিফিথস চলচ্চিত্রের জন্য রিকর্ডিং পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি রুশদীর চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারের মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ধারণ করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তিনি এই প্রক্রিয়াটি নথিভুক্ত করতে শুরু করেন, যা চলচ্চিত্রের প্রামাণিকতা বাড়ায়। তার ক্যামেরা কাজ রুশদীর শারীরিক পরিবর্তন এবং মানসিক পুনরুদ্ধারের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে ধারণ করে, ফলে দর্শককে একটি সম্পূর্ণ চিত্র প্রদান করে।
‘Knife: The Attempted Murder of Salman Rushdie’ সান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয় এবং ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের দৈর্ঘ্য নিয়ে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়। গিবনি পরিচালিত এই কাজটি রুশদীর আত্মবিশ্বাসের পুনর্নির্মাণ এবং সহিংসতার মুখে মানবিক দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে, এবং উৎসবের পর্যালোচনায় এটি সাহসিকতা ও মানবিকতা নিয়ে গভীর আলোচনা উত্থাপন করেছে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে মুক্তমনা প্রকাশের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
চলচ্চিত্রটি স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিরোধের বার্তা বহন করে, যা বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পায়। রুশদীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এবং তার পুনরায় মঞ্চে ফিরে আসা দৃশ্যটি স্বাধীনতা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে উপ



