কেন্দ্রীয় ন্যারি কাউন্টির ওথায়া গ্রামার সেন্ট পিটারস অ্যাংলিকান গির্জায় রবিবার সকাল ১১টায় (GMT+3) একটি হঠাৎ আক্রমণ ঘটায়। গির্জা পরিষেবার মাঝখানে টিয়ার-গ্যাসের ক্যানিস্টার এবং গুলির গুলিবর্ষণ ঘটায়, ফলে সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে কোনো শারীরিক আঘাতের রিপোর্ট না থাকলেও গির্জা কম্পাউন্ডের কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি রিগাথি গাচুয়াগা, যিনি ২০২৪ সালে ইম্পিচমেন্ট ট্রায়ালে পদত্যাগ করেন, এই ঘটনার পর দাবি করেন যে তাকে প্রাণহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আক্রমণকারী দলটি কিছু বিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত, যারা গির্জার ভিতরে গুলি ও টিয়ার-গ্যাস ব্যবহার করে। গাচুয়াগা রুটোর উপর সরাসরি দায়ারোপ করে, দাবি করেন যে রাষ্ট্রপতি তাকে এই আক্রমণ আদেশ দিয়েছেন।
গাচুয়াগা ঘটনাস্থল থেকে তার নিরাপত্তা দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান যে তারা দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন। তিনি টুইটার (X) প্ল্যাটফর্মে ঘটনার ছবি পোস্ট করে, সরকার সমর্থক ব্লগারদের যে আক্রমণটি মঞ্চস্থ করা হয়েছে বলে অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “টিয়ার-গ্যাস কোথা থেকে আসে? এ কে-৪৭ রাইফেল কীভাবে পাওয়া যায়?” এই প্রশ্নগুলো তার নিরাপত্তা উদ্বেগকে তুলে ধরে।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন ঘটনাটিকে নিন্দা করে, গির্জার মতো পবিত্র স্থানে সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী টুইটারে লিখে বলেন, পুলিশকে কোনো ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই কাজ করতে হবে এবং এই অপরাধের দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, পুলিশ প্রধান ইতিমধ্যে তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে আক্রমণকারীদের শিকড় খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের মতে, আক্রমণের সময় টিয়ার-গ্যাসের ক্যানিস্টার গির্জার ভিতরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং গুলির গুলিবর্ষণও ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালু করেছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাড়ি ও সম্পত্তির ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সাক্ষী খুঁজছে। গির্জা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় উপস্থিত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
গাচুয়াগা, যিনি মাউন্ট কেনিয়ার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একজন ধনী ব্যবসায়ী এবং এখন ডেমোক্রেসি ফর দ্য সিটিজেনস পার্টির নেতা, তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এই ঘটনার ব্যবহার করছেন। তিনি রুটোর নীতির বিরোধিতা করে, সরকারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অমর্যাদাপূর্ণ আচরণে অভিযুক্ত করছেন। গাচুয়াগা পূর্বে রুটোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন, তবে ইম্পিচমেন্টের পর থেকে তিনি তীব্র সমালোচক হয়ে উঠেছেন।
কেনিয়ার সংবিধান অনুসারে, গাচুয়াগার সেনেটের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হওয়া তাকে পুনরায় কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়া থেকে বাধা দেয়। তিনি একাদশটি অপরাধের মধ্যে পাঁচটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। এই আইনি বাধা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে সীমাবদ্ধ করে, তবে তিনি এখনও জনমত গঠন ও বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। গাচুয়াগার অভিযোগ রুটোর সরকারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা হ্রাস করতে পারে এবং বিরোধী দলের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, রুটোর সরকার যদি তদন্তে কোনো অস্বচ্ছতা দেখায়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। উভয় পক্ষই এখন নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি করে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী ধাপে, পুলিশ তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে গঠন করবে। গাচুয়াগা তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হবে তা এখনই নজরে থাকবে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই এই ঘটনার পরিণতি নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে, যাতে ধর্মীয় স্থানে সহিংসতা পুনরাবৃত্তি না হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়।



