বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার‑১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ ২৫ জানুয়ারি রবিবার বিকেলে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের টৈটং উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজ নৌকা ও আওয়ামী লীগ উভয়ই অনুপস্থিত, এবং আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের কবর রচনা করেছে।
সালাহউদ্দিনের মতে, শ্রীমতি শেখ হাসিনা নিজেই এই দুইকে দাফন করেছেন; ঢাকায় আওয়ামী লীগের মৃত্যু ঘটেছে এবং দিল্লিতে তা দাফন হয়েছে। তিনি এ কথাগুলোকে দেশের রাজনৈতিক শক্তির পরিবর্তে বিএনপির ভূমিকা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বক্তা আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি কাজ করছে এবং দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এই দলই একমাত্র সুরক্ষাকারী। তিনি যুক্তি দেন, গণতন্ত্রের বিকল্প নাম এবং উন্নয়নের অপর নামই বিএনপি।
এই মন্তব্যের সময়, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, টৈটং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীন, এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জেড এম মুসলেম উদ্দিন, পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু, যুবদলের আহবায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আহছান উল্লাহ, মহিলা দলের সভানেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ঝিনু, ছাত্রদলের আহবায়ক নাইমুর রহমান হৃদয় এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সালাহউদ্দিনের বক্তব্যে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয়ও উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা ভারতের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হয়েছে, তাদের পণ্য এখন মেইড‑ইন ইন্ডিয়া হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, কিছু ব্যবসায়ী ভারতের গ্লোবাল নেটওয়ার্কে প্রবেশের ফলে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
বক্তা আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে আওয়ামী লীগ ও নৌকা উভয়েরই অবনতি ঘটেছে এবং এই অবস্থা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশকে প্রভাবিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি তার অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।
এই মন্তব্যের পর, উপস্থিত বিএনপি নেতারা একমত হয়ে বলেন যে দলটি দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং সরকারের নীতিমালা সমালোচনা করা অব্যাহত থাকবে।
সালাহউদ্দিনের এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, তার রেটোরিক্যাল আক্রমণ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে কিছু সমর্থক তার বক্তব্যকে শক্তিশালী বিরোধী নীতি হিসেবে স্বাগত জানায়।
বিএনপি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, দলটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে দলটি নীতি নির্ধারণে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।
সালাহউদ্দিনের মন্তব্যের পর, স্থানীয় প্রশাসন কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি এবং ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করে মতবিনিময় করেন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান গাওয়া হয়।
এই রেলিক্সে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে; দলটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং আওয়ামী লীগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জনে মনোনিবেশ করবে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এই রকম রেলিক্সের প্রভাব কী হবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



