সৌদি আরবের ফুটবল ক্লাবগুলো গ্রীষ্মের স্থানান্তর বাজারে বিশাল পরিকল্পনা চালু করেছে। দেশীয় লিগকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় করতে তারা বিশ্বের শীর্ষ ৫০ খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে নামগুলো চিহ্নিত করেছে। লক্ষ্য হল ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে লিগের মান দ্রুত উন্নত করা।
ব্রিটিশ মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, সৌদি ক্লাবগুলো রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং লিভারপুলের অভিজ্ঞ উইঙ্গার মোহামেদ সালাহকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রেখেছে। উভয়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চমানের পারফরম্যান্সের অধিকারী এবং মুসলিম পরিচয় তাদেরকে অতিরিক্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
টকস্পোর্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি লিগের লক্ষ্য তালিকায় বার্সেলোনার স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডস্কি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবং ক্যাসেমিরোসহ একাধিক ইউরোপীয় তারকা অন্তর্ভুক্ত। এই নামগুলো প্রকাশের পর ইউরোপীয় ক্লাবগুলো আবারও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।
সৌদি সরকার ক্লাবগুলোর জন্য বিশাল আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। বাজেটের পরিমাণ এত বড় যে, লিগের গুণগত মানকে দ্রুত বিশ্বমানের সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আর্থিক শক্তি ইউরোপীয় দলগুলোর সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে।
গ্রীষ্মের শেষের দিকে, এনগোলো কান্তে, ফ্যাবিনহো এবং করিম বেনজেমা সহ কয়েকজন বড় তারকা লিগ ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের চুক্তি নবায়ন না হওয়ায়, ক্লাবগুলো নতুন সুপারস্টার আকর্ষণ করতে তীব্র প্রচেষ্টা চালাবে।
মোহামেদ সালাহের ক্ষেত্রে, তার ধর্মীয় পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি ক্লাবগুলোকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। লিভারপুলের সঙ্গে তার চুক্তি শেষের দিকে থাকায়, আল হিলাল, আল কাদিশা এবং নিওম এফসি এই তিনটি সৌদি ক্লাব তাকে অর্জনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আল হিলাল ইতিমধ্যে লিভারপুলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা যায়।
সালাহের চুক্তি শেষের দিকে পৌঁছেছে, তবে লিভারপুলের অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। ৩৩ বছর বয়সী তারকা বড় অঙ্কে বিক্রি হতে পারে, তবে ক্লাবের বিক্রয় নীতি এবং তার ব্যক্তিগত চাহিদা আলোচনার মূল বিষয়।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ তার বেতন ও বোনাসের ক্ষেত্রে কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান শর্ত দিতে অনিচ্ছুক। নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া তাকে রাখতে চাইলেও, শর্ত পূরণ না হলে চুক্তি নবায়ন অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সৌদি ক্লাবগুলো এই বড় পরিকল্পনার মাধ্যমে লিগের গুণগত মানকে দ্রুত উন্নত করতে চায়, যাতে ২০৩৪ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেশীয় ফুটবলের আকর্ষণ বাড়ে। আর্থিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক তারকার আকর্ষণই মূল চালিকাশক্তি।
ইতিমধ্যে কিছু ইউরোপীয় ক্লাব এই সম্ভাব্য হারানোর ঝুঁকিতে কৌশলগতভাবে বিক্রয় ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু করেছে। তবে সৌদি ক্লাবগুলোর আর্থিক ক্ষমতা এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের আকাঙ্ক্ষা এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
সৌদি লিগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিশ্ব শীর্ষ খেলোয়াড়দের প্রতি আকর্ষণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো কিভাবে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোকে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে।
সৌদি আরবের এই আক্রমণাত্মক কৌশল এবং আর্থিক শক্তি ফুটবলের গ্লোবাল বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে খেলোয়াড়ের গতিবিধি এবং লিগের গঠনকে পুনর্গঠন করতে পারে।



