ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী অ্যালিস রুফো রবিবার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে জানিয়েছেন, ফ্রান্স ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন প্রদানের উপায় খুঁজে বের করা উচিত, তবে তা যুদ্ধের মাধ্যমে নয়। রুফোর এই মন্তব্য ইরানে চলমান প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পেয়েছে।
রুফো উল্লেখ করেন, ফ্রান্সের অগ্রাধিকার হল কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা, যা ইরানি জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপ ফ্রান্সের নীতি ও কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এই অবস্থান ফ্রান্সের পূর্ববর্তী সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতি সতর্কতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানকে প্রতিফলিত করে।
মন্ত্রীর মতে, ইরানের শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া ইরানি জনগণের নিজস্ব দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, ইরান সরকারের পরিবর্তন বিদেশি শক্তির দ্বারা আরোপিত হতে পারে না, বরং ইরানিরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। রুফো এই বক্তব্যে ইরান সরকারের প্রতি কোনো সরাসরি সমালোচনা না করে, জনগণের স্বায়ত্তশাসনের অধিকারকে তুলে ধরেছেন।
রুফো আরও জানিয়েছেন, ইরান সরকার ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকে কঠিন করে তুলেছে, ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণ অপরাধের নথিভুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বাধা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য সত্যিকারের পরিস্থিতি জানার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে, ফ্রান্সের জন্য তথ্যভিত্তিক নীতি গঠন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
ইরানি জনগণ সাম্প্রতিক সময়ে তাদের শাসনব্যবস্থার প্রতি বিরোধিতা বাড়িয়ে তুলেছে, যা রুফোর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানিরা ইতিমধ্যে তাদের শাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নেবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ফ্রান্সের নীতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানির স্বায়ত্তশাসনের সমর্থনকে শক্তিশালী করতে পারে।
মার্কিন সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে পরে তিনি সেই অবস্থানকে কিছুটা শিথিল করেন। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরান সংক্রান্ত নীতি গঠনে জটিলতা যোগ করেছে। রুফোর মন্তব্য এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের স্বতন্ত্র অবস্থানকে তুলে ধরে।
অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দ্রুত একটি বৃহৎ আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দেশ শাসন করে আসা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করে। এই দাবিগুলি ইরান সরকারের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের সামরিক হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রুফোর বক্তব্য অনুসারে, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি পেলে ইরানি জনগণের চাহিদা পূরণে সহায়তা হতে পারে। তবে ইরান সরকারের কঠোর নীতি ও ইন্টারনেট বন্ধের মতো বাধা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে। ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের এই নীতি ইরানিরা কীভাবে তাদের শাসন পরিবর্তন করবে তা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অ্যালিস রুফোর মন্তব্য ফ্রান্সের ইরান নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়ে, ফ্রান্স ইরানি জনগণের স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, ইরান সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে কী রূপ নেবে তা এখনও অনিশ্চিত।



