পার্থ সিটি-তে ২০২৬ সালের সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম সপ্তাহে প্রযোজক সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অস্কার জয়ী প্রযোজক শেইন বোরিস। সান্ডান্স ইনস্টিটিউট ও অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের প্রযোজক পুরস্কার অনুষ্ঠানে তিনি সকালের কী-নোট উপস্থাপন করেন, যেখানে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের আনন্দ ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
বোরিসের কাজের তালিকায় অস্কার জয়ী নাভালনি, ফায়ার অব লাভ এবং কিং কয়েল সহ বেশ কিছু স্বীকৃত নন-ফিকশন প্রকল্প রয়েছে। এই বছরের ফেস্টিভ্যালে তিনি দুটি নতুন ডকুমেন্টারির প্রিমিয়ার ঘোষণা করেন: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ‘টাইম অ্যান্ড ওয়াটার’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ‘দ্য এআই ডক: অর হাও আই বেকেম অ্যান অ্যাপোক্যালঅপ্টিমিস্ট’।
বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে তার শক্তি ও প্রেরণা মূলত তার সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীদের থেকে আসে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী শীর্ষ প্রযোজকদের সঙ্গে সহযোগিতা তাকে কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করতে এবং আদর্শকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করেছে। এই সমর্থন তার প্রকল্পগুলোকে মূল্য যোগ করার সুযোগও এনে দিয়েছে।
২০২৬ সালের সান্ডান্স প্রোগ্রামে মোট ৯০টি ফিচার-দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত, যার বেশিরভাগই স্বাধীনভাবে উৎপাদিত। এই বিশাল তালিকায় নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ নামের মিশ্রণ দেখা যায়, যা ফেস্টিভ্যালের বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সান্ডান্স ইনস্টিটিউট ও অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস দুইটি বার্ষিক $১০,০০০ গ্র্যান্টের বিজয়ী ঘোষণা করেন। প্রথমটি কল্পনা চলচ্চিত্রের জন্য, দ্বিতীয়টি নন-ফিকশন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত। ‘টেক মি হোম’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা আপূর্ব গুরুচরণ এবং ‘হু কিল্ড অ্যালেক্স ওদেহ?’ শিরোনামের ডকুমেন্টারির পরিচালক ডাউন ল্যাংফোর্ডকে যথাক্রমে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। উভয়ই ২০২৬ সালের ফেস্টিভ্যালে তাদের কাজের প্রিমিয়ার উপভোগ করবেন।
বোরিসের শেষ মন্তব্যগুলোতে তিনি উপস্থিত সকলকে একত্রে উদযাপন করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বর্তমান বিচ্ছিন্ন সমাজে একে অপরকে খুঁজে পাওয়া কতটা বিরল ও সুন্দর তা উল্লেখ করে, নিজের এবং শ्रोतাদের জন্য একটি উৎসাহের বার্তা দেন। তিনি বলেন, শিল্প বা জীবনে আদর্শ অর্জনে বাধা আসলে হতাশ হবেন না; বরং তা থেকে শিখে এগিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।
সান্ডান্স ফেস্টিভ্যালের সময়সূচি ২২ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত, এবং এই ইভেন্টটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে অব্যাহত থাকবে। প্রযোজক, পরিচালক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এই সময়ে পার্ক সিটিতে একত্রিত হয়ে নতুন প্রকল্প, সহযোগিতা ও সৃজনশীল ধারণা ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবেন।
বোরিসের বক্তব্য এবং গ্র্যান্টের ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে স্বাধীন চলচ্চিত্রের জগতে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থন এখনও সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। এই ধরনের উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও বেশি উদ্ভাবনী ও প্রভাবশালী কাজের জন্ম দেবে বলে আশা করা যায়।



