কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালে ইস্টার্ন কেপ ৬ উইকেটে ১৫৮ রানে লক্ষ্য অতিক্রম করে শিরোপা জিতেছে। প্রতিপক্ষ প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস ২০ ওভারে ১৫৮ রান তৈরি করে, তবে শেষের চার বল বাকি রেখে তারা লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়।
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের শুরুর ঝড়ে ৭ রানে প্রথম উইকেট পড়ে, তবে দ্রুতই ৩০ রান পর্যন্ত পৌঁছে তৃতীয় উইকেট হারায়। ব্রাইস পারসন্সের সঙ্গে ৯৮ রান partnership গড়ে তোলার পরেও দলটি পরবর্তী আট ওভারে মাত্র ৬০ রান যোগ করতে পারে, ফলে স্কোর স্থবির হয়ে যায়।
ইস্টার্ন কেপের ব্যাটিংয়ে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের আক্রমণাত্মক খেলা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি ৫৩ বলে সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন, যা তার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হিসেবে রেকর্ড হয়। ব্রেভিসের আউটফিল্ডে ৭টি ছক্কা ও ৮টি চারের সঙ্গে ৬৫ রান করে, যা দলকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
ব্রেভিসের সঙ্গে মেথিউ ব্রিটস্কি ও ট্রিস্টান স্টাবসের ১১৪ রানের পঞ্চম উইকেট পার্টনারশিপ দলকে স্থিতিশীল করে। উভয় খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে, যার ফলে ইস্টার্ন কেপের স্কোর দ্রুত বাড়ে এবং শেষের পর্যায়ে লক্ষ্য অতিক্রমের ভিত্তি তৈরি হয়।
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের শেষের ওভারগুলোতে নিউ জিল্যান্ডের কনর এস্টেজেন শূন্যে আউট হয়ে যায়, ফলে দলটি দ্রুত রানের গতি হারায়। শেই হোপ কেবল এক রান যোগ করে, যা স্কোরে বড় পার্থক্য আনতে পারে না।
ইস্টার্ন কেপের অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন, ১০ রান দিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ বিরতি দেন। তার পরিপূরক হিসেবে অনরিখ নরকিয়া ১ উইকেট নেন, ১৯ রান দিয়ে ব্যাটিং দলে চাপ কমিয়ে দেন।
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের শেষের ওভারে জনি বেয়ারস্টো শূন্যে আউট হন, যা দলের স্কোরকে আরও ধীর করে দেয়। কুইন্টন ডি কক ও ব্রিটস্কির পার্টনারশিপ ৩৪ রান পর্যন্ত টিকে থাকে, তবে ডি ককের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে।
ইস্টার্ন কেপের ব্যাটিংয়ে ৪৮ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে, তবে ব্রিটস্কি ও স্টাবসের দৃঢ় পার্টনারশিপ দলকে পুনরায় সঠিক পথে নিয়ে যায়। উভয়ই ধারাবাহিক রান তৈরি করে, যার ফলে শেষের পর্যায়ে লক্ষ্য অতিক্রমের সম্ভাবনা বাড়ে।
ফাইনালের শেষের দুই ওভারে ইস্টার্ন কেপের ব্যাটাররা লক্ষ্য রানের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায়, এবং শেষের চার বল বাকি রেখে ১৫৮ রানে লক্ষ্য পৌঁছে শিরোপা নিশ্চিত করে।
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের শেষের স্কোর ১৫৮/৪, যা তাদের প্রথম ১৫৮ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ করে। পূর্বের ২০২৩ সালের ফাইনালে তারা মাত্র দুই রানে হেরেছিল, তবে এবার তারা ব্রেভিসের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও শিরোপা জয় করতে পারেনি।
এই জয় ইস্টার্ন কেপের জন্য পুনরুদ্ধারকারী মুহূর্ত, কারণ তারা পূর্বে একবার ফাইনালে এমআই কেপ টাউনের কাছে হেরেছিল। এবার তারা শিরোপা পুনরুদ্ধার করে লিগের শীর্ষে ফিরে এসেছে।
লিগের পরবর্তী রাউন্ডে ইস্টার্ন কেপের শিডিউল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত করবে।



