বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করছে, কারণ দুই বড় শিল্প সংগঠন—বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার উৎপাদক ও রফতানিকার—এর তীব্র প্রতিবাদে। এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হাতে, যা পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেবে।
সুতা বন্ড সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট পরিমাণের কাঁচামাল আমদানিতে করমুক্ত গুদাম ব্যবস্থা প্রদান করে, যাতে উৎপাদন খরচ কমে এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ে। তবে মন্ত্রণালয় প্রথমে সব ধরনের সুতা নয়, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে এই সুবিধা তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। এই সীমাবদ্ধতা শিল্পের বড় অংশকে প্রভাবিত করে, কারণ একই পরিসরের সুতা গার্মেন্ট ও নিটওয়্যার উভয় খাতেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার উৎপাদক ও রফতানিকার উভয়ই বন্ড সুবিধা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা যুক্তি দেয় যে হঠাৎ সুবিধা প্রত্যাহার করলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি আয় কমবে এবং কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে। এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনকে চিঠি পাঠিয়ে সমন্বিত পর্যালোচনা শুরু করেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশন যৌথভাবে নতুন নীতি নির্ধারণের জন্য কাজ করবে, যাতে শিল্পের স্বার্থ ও দেশের বাণিজ্যিক লক্ষ্য উভয়ই সুরক্ষিত থাকে। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বন্ড সুবিধা আর্থিক নীতির অংশ এবং কর সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের মতে, “আমরা শিল্পের স্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে চাই।” তিনি উল্লেখ করেন যে শিল্পের দাবিগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে, তবে সরকারকে সমগ্র শিল্প চেইনকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমানে বন্ড সুবিধা বাতিলের কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত রয়েছে।
একই সময়ে, সরকার তিনটি প্রধান সংগঠনের—বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য, বাংলাদেশ নিটওয়্যার উৎপাদক ও রফতানিকার এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন—চাপ মোকাবেলায় কো-অর্ডিনেশন মিটিংয়ের পরিকল্পনা করেছে। মন্ত্রণালয় আশা করে যে চলতি সপ্তাহের মধ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সকল পক্ষের মতামত শোনা যায় এবং একটি সমন্বিত পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়।
এই আলোচনার সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহের ঠিক আগে এই বিষয়গুলো সমাধান করা হবে কিনা তা অনিশ্চিত। নির্বাচন পূর্বে নীতি পরিবর্তন হলে তা রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে, তাই সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বন্ড সুবিধা বজায় রাখলে গার্মেন্ট ও নিটওয়্যার উভয় খাতের উৎপাদন খরচ কমে, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় স্থিতিশীল থাকে। অন্যদিকে, সুবিধা প্রত্যাহার করলে কাঁচামাল মূল্যের ওপর চাপ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে গ্রাহকের চাহিদা কমাতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শিল্পের প্রতিনিধিরা বন্ড সুবিধা বজায় রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পর্যালোচনা এখনও চলমান, তবে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে নতুন নীতি নির্ধারণে সব তিনটি সংগঠনের মতামত বিবেচনা করা হবে। যদি বন্ড সুবিধা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়, তবে সরকারকে বিকল্প সমর্থন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেমন সরাসরি রপ্তানি প্রণোদনা বা কর হ্রাস।
সংক্ষেপে, সুতা বন্ড সুবিধা নিয়ে সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তন শিল্পের বড় সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধের মুখে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত সমাধান খুঁজতে কাজ করছে। নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে এই বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গার্মেন্ট ও নিটওয়্যার খাতের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



