28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমা জেলে, আদালত প্রাঙ্গণে দেড় বছরের শিশুর সঙ্গে অপেক্ষা

মা জেলে, আদালত প্রাঙ্গণে দেড় বছরের শিশুর সঙ্গে অপেক্ষা

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে ধামরাই থেকে আসা সরলা বিশ্বাস দেড় বছরের শিশুর সঙ্গে বসে ছিলেন। তার পাশে একটি দেয়াল, যেখানে তার ব্যাগ, কাপড়‑চোপড় এবং খাবার রাখা ছিল। শিশুটি মাঝে মাঝে কাঁদে, আবার খেলতে চায়, কখনো ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রবিবারের পুরো দিনই এভাবেই কেটেছে।

সরলা জানিয়েছেন, শিশুটি তার বোন তপসা বিশ্বাসের ছেলে। তপসা পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি খালার কোলে এসে পড়েছে। তপসা ও অন্য তিনজন নারী, কিরণ মালা, বাদল চন্দ্র সরকার ও দুলাল চন্দ্র সরকার, কালিয়াকৈর থানার একটি চুরির মামলায় দণ্ডিত আসামিকে ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশি হস্তক্ষেপের ফলে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজের বাধা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তপসা বিশ্বাসের গ্রেপ্তারী কার্যক্রমের পর সরলা তার সন্তানকে নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন, যাতে বোনের জামিনের জন্য শিশুটিকে ব্যবহার করা যায়। শনিবার পুলিশ তপসা ও অন্যান্য তিনজন নারীর বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন দায়ের করে, তবে আসামিপক্ষ রিমান্ডের বিরোধিতা করে এবং জামিনের আবেদন করে।

ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ দুই নারীর রিমান্ড ও জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর দুই আসামিকে একদিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মো. কাইয়ুম হোসেন জানিয়েছেন।

রবিবার সকালে সরলা শিশুটিকে ঘুম থেকে তুলে, বাসে চড়ে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান। তিনি জানান, আদালতে আইনজীবীর অনুরোধে বোনের জামিনের জন্য শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়েছে, তবে সেই দিন কোনো জামিন শোনানি হয়নি। তাই তারা অপেক্ষা করে দিন কাটিয়ে নিচ্ছেন।

বিকাল পাঁচটায় সরলার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, শুক্রবার রাত দশটার দিকে তার বোনসহ চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। শিশুটির জন্য তিনি একমাত্র দায়িত্বশীল, তাই শিশুটিকে নিজের বুকের দুধ খাওয়াতে এবং খাবার দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, “মাকে ছাড়া দেড় বছরের শিশুকে কীভাবে রাখব, এটাই আমার বড় দুশ্চিন্তা।” শিশুটি এখন তার যত্নে রয়েছে, যদিও তিনি নিজে জেলে আছেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মো. কাইয়ুম হোসেনের মতে, দুই নারীর রিমান্ড ও জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর বাকি দুই আসামিকে একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে আদালত থেকে শীঘ্রই তারিখ জানানো হবে।

সরলা বিশ্বাসের অবস্থা এবং শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুটির জন্য যথাযথ যত্ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, যদিও তার নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থা ও জেল অবস্থার কারণে তা সহজ নয়।

এই মামলায় জড়িত নারীদের বিরুদ্ধে রিমান্ড ও জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ফলে, তারা এখন কারাগারে রয়েছে। তপসা বিশ্বাসের সন্তানকে বর্তমানে সরলা দেখাশোনা করছেন এবং আদালতের পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলার তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments