রবিবার সন্ধ্যায় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে চেলসি ৩-১ স্কোরে ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে। ১৮ বছর বয়সী এস্তেভাও প্রথম গোলের মাধ্যমে দলকে নেতৃত্ব দেয় এবং দ্বিতীয়ার্ধে জোয়াও পেড্রোর জন্য সহায়তা করে। এ ম্যাচটি চেলসির তৃতীয় ধারাবাহিক জয় এবং রোজেনিয়রের দায়িত্বে চতুর্থ জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
এস্তেভাও ৩৪তম মিনিটে প্রথম গোল করেন। নিজের অর্ধে থেকে দৌড়ে জেডি ক্যাভোটের পাসটি গ্রহণ করে তিনি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে শট মারেন, যা নেটকে ছুঁয়ে যায়। এই গোলটি নভেম্বরের পর তার প্রথম গোল ছিল এবং দলকে ১-০ এগিয়ে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে এস্তেভাও আবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি পেড্রোর জন্য পাস দিয়ে সহায়তা করেন, যার ফলে চেলসি ২-০ বাড়িয়ে নেয়। রোজেনিয়র এস্তেভাওকে “বিশেষ ক্ষমতা ও প্রতিভা” বলে প্রশংসা করেন এবং বললেন, “যখন আমাদের সব ১১ জন খেলোয়াড়ই বলের পিছনে থাকে, তখন তিনি বেশি জায়গা পান।” তিনি এই পারফরম্যান্সকে বাড়ি থেকে দূরে একটি শীর্ষ দলীয় পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেন।
চেলসির নতুন কোচ রোজেনিয়র, যিনি এই মাসের শুরুর দিকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, ম্যাচটি একটি “বড় পরীক্ষা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি যোগ করেন, দলটি সব প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে জয় অর্জন করেছে এবং এই জয়টি তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে এনজো ফের্নান্দেজ পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোল করেন, যা স্কোরকে ৩-০ করে। এই গোলটি চেলসির আক্রমণাত্মক শক্তি এবং পেনাল্টি পরিস্থিতিতে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে।
ক্রিস্টাল প্যালেসের ১০ জন খেলোয়াড়ের দল শেষের দিকে ক্রিস রিচার্ডসের গোলের মাধ্যমে এক গোল যোগ করে, তবে তা চেলসির জয়কে বদলাতে পারেনি। রিচার্ডসের গোলটি ম্যাচের শেষের দিকে ঘটেছিল, যখন প্যালেসের খেলোয়াড় সংখ্যা কমে গিয়েছিল।
রোজেনিয়র রক্ষা বিভাগে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, “এটি ভুলের খেলা, সময় লাগবে। আমাদের গঠনমূলক বোঝাপড়া পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে উন্নত হবে, তবে আমরা এখনই জয় চাই এবং তা বুধবারের ম্যাচে আমাদের ফোকাস হবে।” তিনি দলকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে এবং রক্ষার দিক থেকে দ্রুত উন্নতি করতে উৎসাহিত করেন।
চেলসির ভক্তরা রোজেনিয়রের নাম গাইয়ে নতুন কোচের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। রোজেনিয়র স্বীকার করেন যে তিনি ভক্তদের সম্মান অর্জন করতে চান এবং তার প্রধান লক্ষ্য বুধবারের নাপোলি সফর। তিনি যোগ করেন, “আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে চাই, যাতে রাউন্ড অফ ১৬-এ সরাসরি প্রবেশের সুযোগ পাই।” এই লক্ষ্যটি দলকে ইউরোপীয় পর্যায়ে আরও অগ্রসর হতে সাহায্য করবে।
রোজেনিয়র আরও বলেন, “এই দলটি আমার আগে থেকেই চমৎকার ফুটবল খেলেছে। এটা আমার দলের নয়, জয়ী দলের বিষয়। আজকের পারফরম্যান্সে আমি সত্যিই খুব খুশি।” তিনি দলের ঐতিহ্য ও বর্তমান পারফরম্যান্সের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন।
চেলসির সাম্প্রতিক রেকর্ড দেখায়, রোজেনিয়রের অধীনে পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটি জয়। এই ধারাবাহিকতা দলকে লিগ টেবিলে উপরে রাখতে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী বুধবার চেলসি নাপোলির সঙ্গে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে। রোজেনিয়র এই ম্যাচকে দলের রক্ষণশীলতা ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সরাসরি রাউন্ড অফ ১৬-এ প্রবেশ করা, তাই প্রতিটি ম্যাচে পূর্ণ শক্তি দিয়ে খেলতে হবে।” এই ম্যাচটি চেলসির ইউরোপীয় যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, চেলসির এই জয়টি কেবল তিনটি গোলের মাধ্যমে নয়, নতুন কোচের অধীনে দলের মানসিকতা ও কৌশলগত উন্নতিরও প্রমাণ। এস্তেভাওয়ের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স, ফের্নান্দেজের পেনাল্টি গোল এবং রোজেনিয়রের নেতৃত্বে দলটি ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।



