রাজশাহীর বাঘাই গ্রামাঞ্চলে ২০২১‑২০২২ সালে নানার বাড়িতে পড়াশোনা করছিলেন ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী। একই সময়ে সে গর্ভবতী হয়ে যায়। গর্ভধারণের পর তার মা কিশোরীর সঙ্গে তার নিজের ভাইকে বিয়ে করার দাবি করে, তবে ভাইকে ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠে।
কিশোরীর গর্ভধারণের সত্যতা যাচাই করতে পিবিআই ডিএনএ পরীক্ষা পরিচালনা করে। প্রথমে ভাইয়ের ডিএনএ তুলনা করা হলে কোনো মিল পাওয়া যায়নি, ফলে অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল প্রমাণিত হয়। এরপর তদন্তের দিক পরিবর্তন হয় এবং কিশোরীর সৎ বাবার দিকে নজর যায়।
সৎ বাবা, যিনি কিশোরীর মা রাতের বেলা ঘুমিয়ে থাকলে প্রায়ই তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা স্বীকার করেন, তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাকে জবানবন্দি করে ধর্ষণের স্বীকারোক্তি নিতে বাধ্য করা হয়। স্বীকারোক্তির সঙ্গে সঙ্গে তার ডিএনএ নমুনা শিশুর ডিএনএর সঙ্গে মিলে যায়, যা অপরাধের বৈধতা নিশ্চিত করে।
কিশোরীর গর্ভধারণের ফলে ৩ মার্চ ২০২৩ তারিখে একটি পুত্র সন্তান জন্মায়। শিশুর জন্মের পরপরই কিশোরীর মা, ৯ এপ্রিল ২০২৪-এ, তার নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি ‘মিথ্যা’ মামলার মাধ্যমে ভাইকে ফাঁসানোর অভিযোগ করেন।
পিবিআই তদন্তের ফলস্বরূপ সৎ বাবার অপরাধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তাকে অপরাধমূলক দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে চলমান, যেখানে কিশোরীর মা এবং শিশুর স্বার্থ রক্ষার জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা আদেশের আবেদন করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে পিবিআই জানিয়েছে, কিশোরীর মা রাতে ঘুমিয়ে থাকলে সৎ বাবা প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। এই স্বীকারোক্তি এবং ডিএনএ প্রমাণের ভিত্তিতে সৎ বাবার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ, ধর্ষণ এবং শিশুর গর্ভধারণের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।
কিশোরীর মা বর্তমানে মামলায় তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের পাশাপাশি সৎ বাবার অপরাধের জন্য শাস্তি দাবি করছেন। আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবী যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করছেন, যার মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট এবং স্বীকারোক্তি রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত।
প্রসঙ্গত, কিশোরীর মা এবং শিশুর সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও সামাজিক সেবা সংস্থাগুলি তত্ত্বাবধান বাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুর স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের পরবর্তী ধাপে সৎ বাবার অতিরিক্ত সহায়ক ও সহকর্মীদের ওপরও জোরালো অনুসন্ধান চালু হবে। যদি অতিরিক্ত অপরাধী সনাক্ত হয়, তবে তাদেরও আইনি দায়ের আওতায় আনা হবে।
এই মামলায় আদালত এখন পর্যন্ত সৎ বাবার জবানবন্দি স্বীকারোক্তি এবং ডিএনএ প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের প্রমাণ স্বীকার করেছে। তবে চূড়ান্ত রায়ের জন্য প্রমাণের পূর্ণতা এবং আইনি পদ্ধতির অনুসরণ প্রয়োজন।
কিশোরীর মা এবং শিশুর পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, সৎ বাবার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদী তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা গৃহীত হবে। একই সঙ্গে, মামলার মাধ্যমে শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিক তথ্যের জন্য পিবিআই এবং স্থানীয় আদালতের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা হবে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সৎ বাবার শাস্তি, ক্ষতিপূরণ এবং শিশুর সুরক্ষা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



