28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাপূর্ব সরকারের ব্যয় নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে: বাণিজ্য উপদেষ্টার মন্তব্য

পূর্ব সরকারের ব্যয় নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে: বাণিজ্য উপদেষ্টার মন্তব্য

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ – বাণিজ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, পূর্ব সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া করা ব্যয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, এই ব্যয় প্রক্রিয়ার ফলে বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ৪৫,১৯১ কোটি টাকার মূল্যে ২৫টি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পগুলো মূলত অবকাঠামো, শিল্প ও কৃষি খাতে কেন্দ্রীভূত, তবে ব্যয়ের অপ্রত্যাশিততা ও তহবিলের অদক্ষ ব্যবহার নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর একটি কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে কয়েকটি উচ্চ মূলধনী বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, যা সরাসরি উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শস্য, তেল ও গৃহস্থালী পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে হ্রাস করেছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই প্রবণতা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগজনক।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, যদিও বৃহৎ ব্যয় নীতি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে, তবু অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অদক্ষতা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করে মূল পণ্যের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে।

বাজার বিশ্লেষকরা এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নীতি নির্ধারকদের উচিত ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও ফলপ্রসূতা নিশ্চিত করা। তারা যুক্তি দেন, ব্যয় পরিকল্পনা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর এই ব্যয়ের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি উভয় ক্ষেত্রেই বর্তমান বাণিজ্যিক নীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনো উল্লেখযোগ্য বাধা দেখা যায়নি।

১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা সভায় এই বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং নীতি সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

সভার মূল সিদ্ধান্তের মধ্যে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন তদারকি প্রক্রিয়া প্রবর্তন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি গঠন অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যবস্থা ব্যয়ের অদক্ষতা কমিয়ে মূল্যস্ফীতি দমন করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, নীতি পরিবর্তনের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ব্যয় পরিকল্পনা আরও বাস্তবিক ভিত্তিতে করা হবে, যাতে ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই মন্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও মূল্য স্থিতিশীলতা একসঙ্গে চলা প্রয়োজন। তারা পরামর্শ দেন, সরকারকে আর্থিক দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে মূল পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, বাণিজ্য উপদেষ্টার বিশ্লেষণ নির্দেশ করে যে পূর্ব সরকারের ব্যয় নীতি নিত্যপণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, তবে সঠিক তদারকি ও নীতি সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রভাব হ্রাস করা সম্ভব। ভবিষ্যতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হলে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

এই পর্যবেক্ষণগুলো সরকারকে ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা, তহবিলের কার্যকর ব্যবহার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত, নীতি সংশোধনের মাধ্যমে ভোক্তাদের সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হবে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments