রবিবার গাজি আতাউর রহমান, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র, একটি বিবৃতিতে জামায়াত-এ-ইসলামি সিনিয়র নায়েব-এ-আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের মন্তব্যের কঠোর নিন্দা জানিয়ে দলের নেতাদের ইবাদতপূর্ণ ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
তাহের মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশে কিছু ‘চরমপন্থা’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন, যা ইবাদের নেতৃত্বে থাকা দলকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ তৎক্ষণাৎ এই মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত করে এবং তা দলের স্বভাব ও উদ্দেশ্যের বিকৃতি হিসেবে গণ্য করেছে।
বিবৃতিতে গাজি আতাউর রহমান দলকে আধ্যাত্মিক ও সংস্কারমূলক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেন, যা এই অঞ্চলের হাজার বছরের সufi ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত এবং ইসলামের দাওয়াতমুখী চরিত্রকে প্রতিফলিত করে।
দলটি প্রেম, সেবা ও যুক্তিবাদকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে, এবং জনগণের হৃদয় জয় করতে এই মূল্যবোধকে অগ্রসর করে চলেছে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধানিক পথে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে দেশের ইসলামিক পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে এবং কখনোই অ-ইসলামিক বা ভুল ধারণা থেকে উদ্ভূত ‘চরমপন্থা’কে সমর্থন করেনি।
তাহেরের মন্তব্যে ‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ (war on terror) শব্দ ব্যবহারকে দলটি বাংলাদেশের প্রতি বিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখেছে এবং এ ধরনের রেটোরিককে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যান্টি-স্টেট ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেছে।
গাজি আতাউর আরও বলেন, দেশের মধ্যে সশস্ত্রতা বা চরমপন্থার সন্ধান করা একটি গোপন ষড়যন্ত্রের অংশ, এবং তাহেরের এই রকম মন্তব্যে তিনি নিজেই সেই ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছেন।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সংস্কারমূলক প্রবণতা শক্তিশালী করেছে, ফলে তার রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
অবশেষে দলটি মার্কিন দূতাবাসকে তাহেরের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করার দাবি জানিয়েছে, যাতে এই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ভুল বোঝাবুঝি রোধ করা যায়।
এই বিবৃতি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে পারস্পরিক সংলাপ ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে।



