জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আজ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, আমদানি পণ্যের শুল্ক নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তিগত সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বাণিজ্যিক চালান সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা বাড়িয়ে শুল্ক মূল্যায়নের প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স ট্রান্স্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম (FxTMS) এবং আধুনিক কাস্টমস প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত ASYCUDA World সিস্টেমের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের জন্য সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। উভয় সিস্টেমের মাধ্যমে বাণিজ্যিক চালানের তথ্য রিয়েল-টাইমে শেয়ার করা সম্ভব হবে।
এই সংযোগের প্রথম পর্যায়ে তথ্য বিনিময়ের পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাইলটের আওতায় নির্বাচিত কিছু পোর্ট ও এজেন্টের ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে FxTMS ও ASYCUDA World-এ প্রবাহিত হবে, যা শুল্ক নির্ধারণের সময় মানবিক ত্রুটি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলি অস্থায়ী সরকারের শাসনকালে নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শেহের হাসিনা সরকারের পতনের পর গৃহীত হয়। অস্থায়ী সরকার গৃহীত নীতি ও প্রকল্পগুলোকে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং ডিজিটালাইজেশনকে কেন্দ্র করে গঠন করা হয়েছে।
অস্থায়ী সরকারের অধীনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য একাধিক সংস্কার চালু হয়েছে। বিশেষ করে, কর নীতি ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আলাদা করে দেখার জন্য ২০২৫ সালের ‘Revenue Policy and Revenue Management Ordinance’ জারি করা হয়েছে, যা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করে।
সরকারের নতুন ‘Rules of Business and Allocation of Business’ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে ‘Revenue Policy Department’ এবং ‘Revenue Management Department’ গঠন করা হয়েছে। এই কাঠামোগত পরিবর্তন নীতি নির্ধারণের স্বতন্ত্রতা এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১০ বছরের ‘Medium- and Long-Term Revenue Strategy (MLTRS)’ গ্রহণ করেছে। এই কৌশলগত পরিকল্পনা রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, কাঠামোগত সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত উন্নত করার লক্ষ্যে তৈরি।
বিশ্বব্যাংকের সমর্থনে চালু করা ‘Strengthening Domestic Revenue Mobilization Project (SDRMP)’ প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পুরো বোর্ডের কাজকে স্থানান্তর করবে। কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়া হ্রাস এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়ানো এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
কর ছাড়ের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে সরকার ‘Tax Expenditure Policy and Management Framework (TEPMF)’ গঠন করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করেছে। এই নীতি কর ছাড়ের প্রভাব বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয়তা যাচাই এবং ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় ছাড় বন্ধ করার জন্য কাঠামো প্রদান করে।
এই সব পদক্ষেপের সমন্বয়ে আমদানি শুল্কের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কম ব্যয়বহুল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক সংস্থা ও রপ্তানিকারকরা রিয়েল-টাইম তথ্যের সুবিধা পেয়ে শুল্ক পরিশোধে অনিশ্চয়তা কমবে, আর সরকারী রাজস্বের ধারাবাহিকতা ও গুণগত মান উন্নত হবে। ভবিষ্যতে তথ্যের স্বয়ংক্রিয় বিনিময় এবং ডিজিটাল সিস্টেমের বিস্তৃত ব্যবহার নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।



