রবিবার ক্যাম্প নুয়েতে অনুষ্ঠিত লা লিগা ম্যাচে বার্সেলোনা রিয়াল ওভিয়েডোকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে শীর্ষে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে। দানি ওলমো, রাফিনহা এবং লামিন যামাল তিনজনই গোলের কৃতিত্ব অর্জন করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয়। এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা আবার লা লিগার শীর্ষে উঠে দাঁড়ায়, যদিও রিয়াল মাদ্রিদ একদিন আগে ভিলাররিয়েলকে পরাজিত করে শীর্ষে ছিল।
রিয়াল মাদ্রিদের বিজয়ের পর এক রাতের মধ্যে বার্সেলোনা আবার শীর্ষে ফিরে এসেছে, যা লা লিগার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা নির্দেশ করে। দু’দিনের মধ্যে দুইটি শীর্ষস্থানীয় দলই শীর্ষে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের জয়কে শক্তিশালী করেছে।
রিয়াল ওভিয়েডো, যা মৌসুমে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করেছে, টেবিলের নিচের দিকে আটকে আছে। তবে তাদের প্রতিরক্ষা প্রথমার্ধে বেশ দৃঢ় ছিল, যা বার্সেলোনার আক্রমণকে সহজে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে থাকা বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে।
প্রথমার্ধে উভয় দলে গোলের সুযোগ কম ছিল, এবং বার্সেলোনার পাসিংও কিছুটা অপ্রতুল দেখায়। তবে দানি ওলমোর ক্রস থেকে প্রথম গোলটি এসে দলকে আত্মবিশ্বাস দেয়। ওলমো ডানফ্ল্যাঙ্ক থেকে কৌণিক ক্রস পাঠিয়ে লামিন যামালের দিকে পাস করেন, যিনি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে বলটি ভলিতে গড়িয়ে দেয়। এই গোলটি বার্সেলোনার জয়ের সূচনা করে।
ওলমোর প্রথম গোলটি ছিল একটি চমৎকার ক্রসের পরে লামিন যামালের ভলির মাধ্যমে সম্পন্ন, যা দর্শকদের মধ্যে তীব্র উল্লাসের স্রোত তৈরি করে। এই মুহূর্তে স্টেডিয়ামের ছাদ এখনও পুরোপুরি পুনর্নির্মিত না হওয়ায় বৃষ্টির ফোঁটা সরাসরি মাঠে পড়তে থাকে, তবে তবু ভক্তদের উল্লাস থেমে যায় না।
বার্সেলোনার মিডফিল্ডের মূল খেলোয়াড় পেদ্রি গনজালেজ স্টেডিয়ামের সিটে বসে ম্যাচটি দেখছিলেন, তার মুখে কোনো সন্তোষের চিহ্ন দেখা যায়নি। পেদ্রির অনুপস্থিতি দলের গতি ও সৃষ্টিশীলতায় প্রভাব ফেললেও, তার সহকর্মীরা তার অভাব পূরণ করতে সক্ষম হয়।
রিয়াল ওভিয়েডোর হাইসেম হাসান দীর্ঘ দূরত্বের শট থেকে জোয়ান গার্সিয়ার সাহায্যে একটি চমৎকার সেভ করেন, যা প্রথমার্ধে ওভিয়েডোর প্রতিরক্ষার দৃঢ়তা প্রকাশ করে। একই সময়ে বার্সেলোনার রাফিনহা হাফটাইমের আগে গলপোস্টের কাছে একটি শট মারতে গিয়ে গার্ডিয়ান এয়ারন এসক্যান্ডেল তার নিকটবর্তী পোস্টে একটি চমৎকার সেভ দিয়ে রক্ষা করেন। এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ ম্যাচের গতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
হাফটাইমে স্কোর ১-০ বার্সেলোনার পক্ষে ছিল, এবং উভয় দলই পরিবর্তন করে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে প্রস্তুত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা দ্রুত গতি বাড়িয়ে রাফিনহা এবং যামালকে বক্সে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে রাফিনহা ও যামাল একসাথে চাপ দেয়, ফলে বলটি ওলমোর কাছে পৌঁছে। ওলমো দ্রুত গলপোস্টের দিকে চালিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে, যা বার্সেলোনার স্কোরকে ২-০ করে বাড়িয়ে দেয়। এই গোলটি দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
রাফিনহা ৫৭তম মিনিটে তৃতীয় গোলের কৃতিত্ব অর্জন করে। ডেভিড কোস্টাসের একটি অনিয়মিত ব্যাকপাসের পরে রাফিনহা দ্রুত দৌড়ে গিয়ে বলটি গলপোস্টের উপরে উঁচু করে গড়িয়ে দেয়, যা গার্ডিয়ান এসক্যান্ডেল রক্ষা করতে ব্যর্থ হন। এই গোলটি বার্সেলোনার জয়কে নিশ্চিত করে।
লামের যামাল তৃতীয় গোলের সময় একটি চমকপ্রদ স্কিসর-কিক ভলিতে গোল করেন। ওলমোর ক্রসটি যামালের পেছনে পড়ে, তিনি দেহকে উল্টে একদম পার্শ্বিক কিক দিয়ে বলটি গলপোস্টের দিকে গড়িয়ে দেন। এই চমকপ্রদ ভলিটি দর্শকদের মধ্যে তীব্র উল্লাসের স্রোত তৈরি করে এবং ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তে বার্সেলোনার জয়কে দৃঢ় করে।
ম্যাচের শেষের দিকে স্টেডিয়ামে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়, ফলে ছাদ না থাকা অংশে ভক্তরা দ্রুত ছুটে বেরিয়ে যায়। তবে কিছু ভক্ত রইল এবং গেমের শেষ মুহূর্তে রবার্ট লেভান্ডস্কির সম্ভাব্য চতুর্থ গোলকে গার্ডিয়ান এসক্যান্ডেল একটি চমৎকার সেভ দিয়ে রোধ করেন। এই সেভটি ম্যাচের শেষের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
বার্সেলোনার এই জয় তাদের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ফিরে আসার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে শীর্ষের দৌড়ে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। পরবর্তী ম্যাচে বার্সেলোনা তাদের ঘরোয়া স্টেডিয়ামে পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে শিরোপা জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য থাকবে।



