রোববার বিকাল প্রায় চারটায় গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার কাছাকাছি কাজিমউদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এক নৃশংস ডাকাতি সংঘটিত হয়। দুজন এজেন্ট ব্যাংক কর্মীকে গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে থামিয়ে তাদের হাতে থাকা ২৪ লাখ টাকার ব্যাগ চুরি করা হয়। অপরাধীরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি থামিয়ে আক্রমণ চালায়। ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ব্যাংক কর্মীরা মারধর সহ্য করে শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে অপরাধীরা দ্রুত পলায়ন করে।
ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান এবং তার সহকারী সোহরাব ওই সময় মোটরসাইকেলে ২৪ লাখ টাকা বহন করছিলেন। তারা ভোগড়া বাইপাস শাখা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা শাখায় টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন। গন্তব্যের পথে তারা কাজিমউদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। ঠিক এই মুহূর্তে তিনটি অপরিচিত মোটরসাইকেল থেমে তাদের গতি বাধা দেয়। অপরাধীরা হঠাৎ ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। গুলির শ্বাসে কর্মীরা আত্মরক্ষার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধরা পড়ে।
আক্রমণকারী দল দ্রুত কর্মীদের উপর গুলি চালায় এবং শারীরিক আক্রমণ করে। হাবিবুর রহমান ও সোহরাবকে মারধর করে তাদের পকেটের টাকা ব্যাগ তুলে নেয়া হয়। ককটেল বিস্ফোরণের ধোঁয়া ও গুলির শব্দ আশেপাশের পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অপরাধীরা ব্যাগটি হাতে নিয়ে তৎক্ষণাৎ গন্তব্যের দিকে রওনা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু লোক গুলির শব্দের কারণে সাড়া দিতে পারেনি। চোরেরা দ্রুত তিনটি মোটরসাইকেলে সরে গিয়ে রাস্তায় মিশে অদৃশ্য হয়ে যায়।
বাসন থানা থেকে ওসি হারুন অর রশিদ ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে现场ে পৌঁছান।现场ে পৌঁছে তিনি গুলির গন্ধ ও ককটেল বিস্ফোরণের চিহ্ন লক্ষ্য করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও চুরি করা অর্থ উদ্ধার করার জন্য অনুসন্ধান অভিযান চালু করে। স্থানীয় গ্যাংস্টারদের সম্ভাব্য জড়িততা নিয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের গাড়ি ও মোবাইল ট্রেস করার জন্য ফোরেন্সিক দলকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে জড়িত সকল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুর পুলিশ এখন মামলার ফাইল তৈরি করে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চুরি করা ২৪ লাখ টাকা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মামলা চলবে বলে জানানো হয়েছে। হাবিবুর রহমান ও সোহরাবের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ, মারধর ও চুরি সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হবে। অপরাধীদের ধরতে সিআইডি ক্যামেরা রেকর্ডিং ও সাক্ষীদের বিবৃতি ব্যবহার করা হবে। আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলাকালে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত অভিযোগ যোগ করা হতে পারে।
ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক গাজীপুরে বেশ কয়েকটি শাখা পরিচালনা করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভোগড়া বাইপাস শাখা থেকে চৌরাস্তা শাখায় নগদ স্থানান্তর সাধারণত নিরাপদ পথে করা হয়। তবে এই ঘটনার পর ব্যাংক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র গার্ডের ব্যবস্থা করা হবে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে। গ্রাহকদের উদ্বেগ কমাতে ব্যাংক দ্রুত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা রোধে নগদ পরিবহন প্রোটোকল কঠোর করা হবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক করেছে যে, অজানা গাড়ি বা মোটরসাইকেল থেকে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। গাজীপুরে রাতে একাকী ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের হিংসাত্মক ডাকাতি অপরাধের শিকারদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করে, তাই দ্রুত রিপোর্ট করা জরুরি। পুলিশ বর্তমানে চোরদের সনাক্তকরণে শহরের ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। চুরি করা অর্থের পুনরুদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি গাজীপুরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।



